প্রফুল্লচন্দ্র অনন্য বাঙালি বহুত্ববাদী বিশ্বনাগরিক

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:০৭ এএম

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এরপর ‘অনন্য বাঙালি, বহুত্ববাদী বিশ্বনাগরিক’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। 

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘প্রফুল্ল রায়ের মতো গুণী রসায়নশাস্ত্রবিদ এবং গভীর মননের প্রাবন্ধিক সত্যিই যুগবিরল। একজন নিষ্ঠ সমাজ-সংস্কারক, দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোন্নতি বিধানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবন ও কর্ম থেকে প্রেরণা নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই বিজ্ঞানভিত্তিক-যুক্তিবাদী বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যেতে সক্ষম হব।’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বিজ্ঞানচর্চা নেহাত কারিগরি বা প্রযুক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং ইহজাগতিক-যুক্তিবাদী সমাজ গঠনের সূত্রসার ধরা ছিল তাতে। তিনি শিক্ষাবিস্তার, সমাজসংস্কার এবং স্বাধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বলা চলে তিনি ছিলেন বাংলা রেনেসাঁর একজন অন্যতম প্রবর্তক। উঁচুমানের লেখক হিসেবেও তার স্থান বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্টতার দাবি রাখে।’ তিনি বলেন, বিশেষ করে তার আত্মচরিত এবং খরভব ধহফ ঊীঢ়বৎরবহপব ড়ভ ধ ইবহমধষর ঈযবসরংঃ বইতে আত্মকথার সূত্রে ধরা আছে বাঙালি সমাজের নিপুণ চালচিত্র।

সভাপতির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘প্রফুল্লচন্দ্র রায় একই সঙ্গে একজন বিশিষ্ট এবং বিস্মৃত বাঙালি প্রতিভা। রসায়নশাস্ত্রে এবং সার্বিকভাবে বিজ্ঞানচর্চায় তার অবদান মৌলিক ও অবিস্মরণীয়। প্রফুল্ল রায় জাতিভেদ প্রথার ঊর্ধ্বে উঠে স্বদেশের আপামর মানুষের সামাজিক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, আবার ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে স্বাদেশিক আন্দোলনের অগ্রভাগে অবস্থান নিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত