একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপিদলীয় প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংসদ জাহিদকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানালেও এলাকার বেশ কয়েকজন সাধারণ ভোটার তার এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও জাহিদের শপথ নেওয়াকে সাধুবাদ জানান।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন জাহিদুর রহমান। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের ওই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও তা উপেক্ষা করে এর আগে গণফোরামের সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার শপথ নেন জাহিদুর রহমান। দলের সিদ্ধান্ত না মানার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নির্বাচিত করেছে এলাকার জনগণ। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতেই তিনি শপথ নিয়েছেন।
জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ায় তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। গতকাল দুপুরে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘জাহিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হবে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বলেছে।’ মির্জা ফয়সল আরও বলেন, ‘এমপি জাহিদ দলের মধ্যে ভাঙনের চেষ্টা করছেন। এটাতে তিনি সফল হবেন না।’
প্রায় একই ধরনের মত প্রকাশ করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কখনো ভালো কিছু করতে পারেনি, তিনিও পারবেন না। তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
সাংসদ জাহিদের সংসদীয় এলাকা পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তিনি শপথ নিয়েছেন। এটা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ এটা মেনে নিতে পারছেন না। আমরা তার এই সিদ্ধান্তকে ঘৃণার চোখে দেখছি।’
তবে একই সংসদীয় এলাকার সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ জানালেন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘এমপি জাহিদ শপথ নিয়ে এলাকার সাধারণ ভোটারদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এলাকার স্বার্থে ও এলাকার উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছি।’
আরেক ভোটার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এ লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষ তাকে (জাহিদ) ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই উপজেলায় তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। কিন্তু এবার তিনি এই উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলে আশা করছি।’
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু জাহিদের শপথ নেওয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে ওই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি এটা অনুধাবন করে শপথ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’
গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইমদাদুল হক মোটরগাড়ি প্রতীকে পান ৮৪ হাজার ৩৯৫ ভোট।
