পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী

সমস্যা জানলেও প্রপারলি অ্যাড্রেস করতে পারছি না

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৪৪ এএম

দেশের শেয়ারবাজারে চলমান দরপতনের পেছনে অসাধু একটি মহলের হাত আছে জানালেও তাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ‘পুঁজিবাজারে সিংহ-ছাগলের খেলা চলছে। এখানে সমস্যা কোথায় আছে আমরা জানি কিন্তু প্রপারলি অ্যাড্রেস করতে পারছি না। তাছাড়া ব্যাংকিং খাতে একটি করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসির সম্মেলনকক্ষে এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুঁজিবাজার নিয়ে সম্পাদকদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের পর আমি বললাম, বাজার যে খারাপ হচ্ছে এর পেছনে কেউ আছে। অসাধু উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটা আপনারা ভালোভাবে জানেন কারা করে। যারা করে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করছে, চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (একটি মহল) ভালোভাবেই জানে সামনে বাজেট। পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু না কিছু বাজেটে প্রণোদনা থাকবে। এজন্য এখন শেয়ারের দাম বাড়ার কথা, কমার কথা না। এখন কেন কমাচ্ছে, কারণ দাম কমলে যেন তারা শেয়ারটা কিনতে পারে। ওরা (মহল) সারা দেশে লোক রেখে দেয়। তারা তাদের নিয়োগকৃত লোকদের বলে দেয় কিনো কিনো। পরে দাম উঠে গেলে বিক্রি করে দেয়। আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন কয়জনকে ধরবেন বা বোঝাবেন।’

ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুব ভালো নেই জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, এ খাতের উন্নয়নে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হচ্ছে। অনেককেই খেলাপি ঋণের বিপরীতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না। মামলা করতে পারছে না। এসব বিষয়ে উদ্যোগ নেবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি। আগামীতে সুদের হার কমিয়ে নিয়ে আসা হবে। যাতে ঋণখেলাপি না হয়। এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। অসততা আমাকে স্পর্শ করেনি, করবেও না। আমি অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। সাধারণ মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদ হারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সঞ্চয়পত্রের সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে। সঞ্চয়পত্র যাদের জন্য করা হয়েছে, শুধু তারাই এখানে বিনিয়োগ করতে পারবে। অনেক অবৈধ টাকায় সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে।

আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত