ওয়াসার পানির ল্যাব রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:০৪ এএম

ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষিত পানির মানের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) কয়েকটি সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে এক মানববন্ধন থেকে তারা এই দাবি জানায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অব্যবস্থাপনা ও বিশুদ্ধতার মান মনিটরিংয়ের অভাবে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির গুণগতমান এত নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তা একেবারেই পান করার মতো নয়। তাদের পানির মান মনিটরিংয়ের অন্যতম প্রাথমিক ধাপ ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষিত ফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বিজ্ঞান ও গবেষণাগার, বুয়েট, আইসিডিডিআরবিসহ অন্যান্য ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে এবং তা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।

দুর্গন্ধযুক্ত পানি খেয়ে নগরবাসী পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছে দাবি করে বক্তারা বলেন, মানসম্মত পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। মোহাম্মদপুরের নিজস্ব ল্যাব ব্যবস্থাপনায় মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শতভাগ পরিশোধন না করেই নগরবাসীকে দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত পানি খাওয়াচ্ছে ওয়াসা। এতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়াচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ওয়াসা ডিপ-টিউবওয়েলের মুখের পানি পরীক্ষা করে বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও গ্রাহক সেবা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেÑ যা সম্পূর্ণ যুক্তিহীন। গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাহকের বাসার ট্যাঙ্কের পানির বিশুদ্ধতা মাপতে হবে। প্রকল্প গ্রহণের ধান্ধা না করে পানির গুণগত মানের দিকে নজর দিতে ওয়াসাকে পরামর্শ দেন তারা।

গত ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়াসার ৯১ ভাগ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। এতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসা ব্যবস্থাপনার পরিচালক তাকসিম এ খান দাবি করেন ওয়াসার পানি একশ ভাগ সুপেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াসার পানির মান পরীক্ষার ল্যাব প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানায় সংগঠনগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত