মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ভররা নিউ সমিতির গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সমিতির দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সমিতির এক গ্রাহক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বিষয়টি দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুনীল কুমার কর্মকার নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- দৌলতপুর উপজেলার খলসি ইউনিয়নের ভররা গ্রামের আরজত আলীর ছেলে শাহিনুর ইসলাম দরজী ও একই গ্রামের আতোয়ার রহমানের ছেলে সাইদুর রহমান।
পুলিশ ও সমিতির সদস্যরা জানান, শাহিনুর ইসলাম দরজী ও সাইদুর রহমান ৭-৮ মাস আগে ভররা নিউ সমিতি গঠন করেন। বিগত ৭-৮ মাসে ৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সমিতির সদস্যরা টাকা জমা রাখলেই প্রতি লাখে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়া হবে মর্মে প্রচার করা হয়। এমন প্রতারণার ফাঁদ ফেলে ২/১ সদস্যদের নিকট থেকে টাকা জামানত রেখে আরেক সদস্যকে লাভের ৫০ হাজার টাকা দিতে থাকেন তারা।
তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে ৫০ জন সদস্য ভর্তি হন সমিতিতে। তারা প্রায় কোটি টাকা জমা রাখেন। কিন্তু পরে সমিতির অধিকাংশ সদস্যের আসলসহ সুদের টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করেন শাহিনুর ও সাইদুর।
পরে সমিতির সদস্যরা গত মঙ্গলবার মূলধন ও সুদের টাকা না ফেরতের জন্য উপজেলা ভররা গ্রামে নিউ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহিনুর ইসলাম দরজী ও সহযোগী সাইদুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে।
এমন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে দুই প্রতারককে আটক করে থানা নিয়ে যায়।
সমিতির সদস্য খলসি ইউনিয়নের ভররা গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে আলতাফ হোসেন বলের, আমার এক প্রতিবেশী সমিতির সদস্য হয়ে এক লাখে মাসে ৫০ হাজার টাকা সুদ হাতে পেয়েছে। এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা করি। কিন্তু আমি সুদ কিংবা মূল টাকার একটি টাকাও ফেরত পাইনি।
ভররা নিউ সমিতিতে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা রাখা ভররা গ্রামের জুলু মল্লিকের ছেলে জামাল মল্লিক বলেন, প্রতি মাসে এক লাখে ৫০ হাজার সুদ এই লোভে পড়ে আমি আমার সব টাকা এখানে জমা দেই। আমার মতো আরও ৫০ জন সদস্য এই সমিতিতে কোটি টাকা জমা দিয়েছে।
প্রতারণার শিকার ভররা গ্রামের নকীমুদ্দিনের ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী নুর ইসলাম বলেন, ভররা নিউ সমিতিতে আমরা ৫০ জন সদস্য টাকা দিয়ে এখন আমরা রাস্তার ফকির হয়ে পড়েছি। আমাদের সুদ লাগবে না আসল টাকা ফেরত চাই।
এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি সুনীল কুমার কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার রাতেই প্রতারণার শিকার ভররা গ্রামের জুলু মল্লিকের ছেলে জামাল মল্লি বাদী হয়ে নিজের টাকাসহ সমিতির অন্য সদস্যদের মোট ৮৯ লাখ টাকা আদায়ে মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন বলেন, ওসির মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। যেহেতু মামলা হয়েছে আইনের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হবে।
