শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়কে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ বাড়িতে বসে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মুসল্লিরা শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে সমবেত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন মসজিদের বাইরে পুলিশ বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের পাহারা দিতে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার দেশটির মুসলিমবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গির্জাগুলোর সঙ্গে সহাবস্থান করে মসজিদ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশ মেনে অনেক মসজিদই শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়।
দেশটির মুসলিমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে। যেকোনো মুহূর্তে তাদের ওপর হামলা হতে পারে, এমন ভয়ে আছে তারা। রাজধানী কলম্বোর মসজিদগুলোতে শুক্রবার মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশ কম ছিল। দাওয়াতাঘাহা জুমা মসজিদের চেয়ারম্যান রিয়াজ সাল্লে বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসীদের কঠোর বার্তা দিতে চাই যে, আমরা কোনো কিছুতে ভীত নই। তার পরও আমরা আজ নামাজে মিলিত হয়েছি, কারণ আমরা সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছি।’
অন্য সময় শুক্রবার দাওয়াতাঘাহা মসজিদে প্রায় ৭০০ মুসল্লি নামাজ পড়তে এলেও গতকাল এসেছে মাত্র ১০০ জন। কম উপস্থিতির মধ্যেই নামাজ আদায় করে এবং মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রার্থনার সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, মহানবী মোহাম্মদও এই হামলার নিন্দা করতেন।
তবে শুক্রবার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল কাত্তানকুন্ডির মেথাইপালি জুমা মসজিদে প্রায় ১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করে। মসজিদ কমিটির একজন বলেন, ‘এই হামলা চালিয়েছে কিছু মানুষ। কিন্তু অনেকে এই ঘটনার জন্য শ্রীলঙ্কার পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করছেন। এটা ঠিক নয়। যারা ওই হামলা চালিয়েছে তারা মানুষ নয়।’
শ্রীলঙ্কায় গত রবিবারের হামলায় ২৫৩ জনের মৃত্যু ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এই হামলার পেছনে স্থানীয় একটি কট্টর ইসলামপন্থি দলকে দায়ী করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। যদিও ওই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট।
