দক্ষিণ এশিয়ার যে কটি দেশে গত দশকে নারী কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে, বাংলাদেশ সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দেশে নারী ও পুরুষের মধ্যে মজুরির ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গতকাল রবিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। জেন্ডার সমতা সৃষ্টিতে নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির চলমান গতি ধরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ২৬ থেকে ৩৬ শতাংশে বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন স্বীকার করেও প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো নিয়োগ, অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ক্ষমতা সীমিত।
বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক পরিচালক রবার্ট সাউম বলেন, বাংলাদেশ বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও
শিক্ষাসহ বহু ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। নারী শ্রমশক্তি বৃদ্ধিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধা অপসারণ করা গেলে উৎপাদনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবারিত হবে। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো কৃষিজমির মালিকানা নারীর তুলনায় পুরুষদের ছয়গুণ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চমানের ও অধিক বেতনের চাকরিতে আরও বেশিসংখ্যক নারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। নারী শ্রমশক্তির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হলো অবৈতনিক গৃহস্থালি সহযোগী। এখন গ্রামীণ নারীদের অনেকেই এক দশক আগের চেয়ে বেশি হারে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি দাবি করছে। তবে নারীদের একটা বড় অংশ এখনো তা ছেড়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বর্ধমান হলেও তা এখনো ক্ষুদ্র ও বিশেষ কিছু খাতে সীমাবদ্ধ। এ ছাড়া চাকরি পাওয়া ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
