ফখরুলের আসনে উপনির্বাচন

আগ্রহী আওয়ামী লীগের ৬ জন, বিএনপির কেউ নয়

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ০৩:২৪ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরই উপনির্বাচনে কে কোন দলের প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ‘প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই’ লেখা পোস্ট দেওয়া শুরু করেছেন বিভিন্ন নেতার সমর্থকরা। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছয়জন ও জাতীয় পার্টির একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপি দল বা জোটগতভাবে এ উপনির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি মহাসচিব বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। গত ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দলের নির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিলেও তিনি নেননি। পরদিন সন্ধ্যায় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার সাতটি আসনই দীর্ঘদিন দলটির দখলে ছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করার পর বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন মহাজোটের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর।

উপনির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের তিনজন যুগ্ম সম্পাদক। তারা হলেনÑ রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা ও মঞ্জুরুল আলম মোহন। এ ছাড়া দলটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহাদৎ আলম ঝুনু, প্রয়াত সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন এবং কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিকও প্রার্থী হতে আগ্রহী। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম ওমর এবারও মহাজোটের মনোনয়ন চাইবেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি মহাজোটের টিকিটে লড়ে মির্জা ফখরুলের কাছে পরাজিত হন। 

বগুড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, ‘বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও পরবর্তী সময়ে জোটকে তা ছেড়ে দিতে হয়েছে। এবার আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেবে।’

যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা জানান, ‘শূন্য আসনে অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। আমি নিজেও দলীয় মনোনয়ন চাইব। দলের মনোনয়ন বোর্ড আগ্রহীদের মধ্যে যোগ্যতর প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে।’ দল যাকে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

দলের আরেক যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন বলেন, ‘গত নির্বাচনেও আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। এবারও দলের কাছে মনোনয়ন চাইব, তবে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।’

এ উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। তবে অপর অংশের নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘এই উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। এ কারণে কারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

এদিকে, সাবেক এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওমর বলেন, ‘সর্বশেষ নির্বাচনে আমি মহাজোটের প্রার্থী ছিলাম, আসন্ন উপনির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চাইব। দল বা জোটগতভাবে মনোনয়ন পেলে আমি প্রার্থী হব।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত