মৃত্যুর এগারো দিন পর বাংলাদেশে এসেছে লোকসংগীত গবেষক মাহবুব পিয়ালের মরদেহ। একটি সেমিনারে অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানকালে গত ২৪ এপ্রিল বার্মিংহামে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় মৃত্যুবরণ করেন মাহবুব পিয়াল।
শনিবার দুপুর দেড়টায় পিয়ালের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা তিনটায় পিয়ালের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে বাদ এশা স্থানীয় কান্দিপাড়া মাদ্রাসায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন জানাজায়। পরে শহরের শেরপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত হন মাহবুব পিয়াল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি জয়দুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছুদিন আগেই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অমর পাল চলে গেলেন। তার কয়েক দিন পরই পিয়ালকে হারালাম। অল্প দিনের ব্যবধানে দুই গুণীজনকে হারাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অমর পালের মৃত্যুর পর পিয়াল আমাকে ফোন করে বলেছিল অমর পালকে নিয়ে স্মরণসভার আয়োজন করতে। কিন্তু পিয়াল এভাবে চলে যাবে সেটা ভাবতে পারিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অমর পালকে নিয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে পিয়ালের স্মরণসভাও আমাদের করতে হবে এটা ভাবিনি।’
মাহবুব পিয়ালের জন্ম ১৯৬৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। স্কুলে থাকতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। মুক্ত নাটক আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই লোকগান নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। দেশের নানা এলাকা ঘুরে লোকগান সংগ্রহ করেছেন ৩০ বছর ধরে। গড়ে তুলেছেন একটি অনলাইন আর্কাইভ। ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম। নাম ‘কোন রঙে ডাকো রে’। এরপর ২০০৯ সালে ‘মেঘরাজা’। ২০১০ সালে সারিগান নিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘গাঙ্গে নয়া পানি’। তার শেষ অ্যালবামটির নাম ‘মন মন উড়াপাখি’।
তিনি দেরাদুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। মৃত্যুর আগে ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
