‘ফণি’র প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নৌরুটে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। থেমে থেমে ঝড়বৃষ্টির কারণে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। গত শুক্রবার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৩টা থেকে সব ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইভাবে বন্ধ ছিল শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান। এতে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাট বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, ফণির প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে শুক্রবার থেকে ফেরি ও স্পিডবোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় নৌরুটে চলাচলরত ১৬টি ফেরি, চার শতাধিক স্পিডবোট ও ৮৭টি যাত্রীবাহী লঞ্চ শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী ঘাটে নোঙরে রাখা হয়।
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের সহকারী মহাব্যস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ফণির কারণে নদী উত্তাল রয়েছে, তাই নৌ দুর্ঘটনা এড়াতেই সাময়িকভাবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদী স্বাভাবিক ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হবে। তবে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত যানবাহনের সংখ্যা জানাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থেকে অমানুষিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তারা। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের সব নৌযান নিরাপদে রাখা হয়েছে।
যানবাহন কর্মচারীরা জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক, ছোট বড় ও পরিবহন মিলে সহ¯্রাধিক যানবাহন ফেরি পারাপারে অপেক্ষায় আছে। টানা ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) বরকতউল্লাহ জানান, ফণির প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া কমে এলে নৌরুটে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। শিমুলিয়াঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান।
