ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনে আপত্তি ডিএনসিসির

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

রাস্তা কেটে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার স্থাপন করার পর ওই রাস্তা মেরামত করবে কে? এমন প্রশ্ন তুলে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে অনুমোদন দেয়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এছাড়া চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্যও মাটির নিচ দিয়ে তার স্থাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা ইলেকট্রনিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্পে থেকে অর্থায়নের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে চীনভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। গত জুনে শেষ হওয়া প্রকল্পে সংশোধনী এনে নতুন করে আবারও এক বছর মেয়াদ চেয়েছে ডেসকো।

ডেসকোর আওতাধীন ঢাকা ও গাজীপুরে বিদ্যুতের সরবরাহ লাইন মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করতে ২০১৬ সালে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হয়। ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ৩৫৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল এআইআইবির। প্রকল্পের আওতায় কেব্ল ট্রেন্স নির্মাণ, ৮৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড কেব্ল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় টারমিনেশন কিট সরবরাহ করার কথা ছিল। এক দফা এক বছর মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ করতে না পেরে এখন তাতে সংশোধনী এনে খরচ ২১ কোটি কমিয়ে মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ডেসকো। এ প্রস্তাবের ওপর সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে।

ডেসকো এলাকায় বিদ্যমান ৩৩ কেভি ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনকে আন্ডারগ্রাউন্ড কেব্লে রূপান্তর, ক্ষমতাবর্ধন এবং স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে রাজধানীসহ আশপাশ এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সরবরাহ লাইনের ক্ষমতা বাড়ত, সিস্টেম লস কমত। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানি কমানো ও ঢাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেত।

মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার স্থাপনে অনুমোদন না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা রাস্তা ঠিক করি, অন্যরা কেটে রেখে যায়। এজন্য হয়তো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর বাইরে আর কোনো কারণ আছে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা করছি।’

প্রকল্প সংশোধনীর প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, ‘সিটি করপোরেশন ডেসকোর লাইন আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়ার অনুমোদন দেয়নি, ফলে ওই অঞ্চলের কাজ শুরুই করা যায়নি। এছাড়া মিরপুর ও উত্তরায় চলমান মেট্রোরেলের কাজের কারণে কাজে বিঘœ দেখা দিয়েছে। আগে আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ কেব্ল বা তার স্থাপনের জন্য ২৪টি রুট নির্ধারণ করা ছিল। এখন সেটা বাড়িয়ে ২৭টি করতে হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন নিয়ম অনুসারে মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাটবাবদ ব্যয় বেড়েছে। আগে ভ্যাটের হার ছিল ৩২ শতাংশ, এখন দিতে হবে ৫২ শতাংশ। এতে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার ব্যয় বেড়েছে। তবে দরপত্র অনুসারে, বৈদেশিক ঋণের ১৭ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার কম ব্যয় হয়েছে। ফলে বৈদেশিক ঋণের ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ কমিয়ে ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন সংশোধিত প্রস্তাব অনুসারে, প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৫৪৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ কমে দাঁড়াবে ৩৫৬ কোটি টাকা। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায় ডেসকো।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারী প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডেসকো একই ধরনের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ফলে এটি ‘অভারলেপিং’ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের রঙিন নকশা চাওয়া হয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড রুট কেন পরিবর্তন করতে হচ্ছে তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। ডিএনসিসির অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের রাস্তা কাটার অনুমোদন বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। পিইসি সভার কার্যপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নতুন প্রস্তাবে বেশকিছু প্রশ্ন তুলে কমিশন বলেছে, প্রকল্প অনুমোদনের সময় পরামর্শকসহ জনবলের জন্য চার বছর মেয়াদে ৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সংশোধনী প্রস্তাবে একই খাতে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত