ঘূর্ণিঝড় ফণি-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্মিলিতভাবে গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী গৃহীত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব/সিনিয়র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যালোচনা সভা হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
গতকালের বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় তার মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, এরূপ দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সারা দেশে আরও ৭ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব সভায় অবহিত করেন, যেসব জেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত করেনি সেসব জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আক্রান্ত জেলায় নিযুক্ত করে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর বিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের লাইন জরুরিভাবে মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে সব জেলায় বিদ্যুৎ সচল রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সভায় জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে ৪ হাজার ৬৬৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ‘ঘূর্ণিঝড় ফণি’জনিত কারণে ২৪৩টি স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বাঁধে বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়। অবশিষ্ট ২৪১টি বাঁধ মেরামত/রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। মুখ্য সচিব দ্রুততার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের নির্দেশ দেন।
কৃষিসচিব সভায় জানান, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোয় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য কার্যক্রম প্রণয়নে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘূর্ণিঝড় ফণি সফলভাবে মোকাবিলা করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
