মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে রোজা আসলেই বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। বলতে গেলে কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে এমনটা ব্যতিক্রম। আর গরুর মাংসের দাম নিয়ে তো অভিযোগ পুরোনো।
রোজার মাসের জন্য ঢাকা দক্ষিণের সিটি করপোরেশন গরু ও খাসির মাংসের দাম কেজি প্রতি যথাক্রমে ৫২৫ ও ৭৫০ টাকায় বেঁধে দিয়েছে। অবশ্য ঢাকার দুই সিটিতেই সেটা কার্যকর হবে বলে পরে জানানো হয়েছে।
কিন্তু রোজার মাস আসতে না আসতেই মাংসের দাম বাড়ছে কেন- মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলমের মতে, সীমান্ত থেকে গাবতলী পর্যন্ত আসার পথে সরকারি নির্ধারিত খাজনার চেয়ে বহু গুণ বেশি খাজনা ইজারাদারেরা অবৈধভাবে আদায় করছে বলেই মূলত গরুর মাংসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
তিনি বলেন, “গত তিন বছরে বাংলাদেশে মাংসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চাঁদাবাজরা যদি পশুর ওপর চাঁদাবাজি বন্ধ করে, তাহলে কেজি প্রতি ৩০০ টাকায়ও মাংস বিক্রি করা সম্ভব।”
তার মতে, পশুর ওপর সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা গোষ্ঠীকে ঠেকাতে না পারার বেশ কয়েকটি কারণ আছে।
তবে রবিউল আলম সুনির্দিষ্ট করে বলেন, “করপোরেশন চাইলে এই চাঁদাবাজি এক মিনিটে বন্ধ করতে পারে। কিন্তু যেহেতু এখানে কোটি কোটি টাকার স্বার্থ জড়িত, তাই আন্তরিকতার অভাব আর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাচ্ছ না।”
তারা ধারণা, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ইজারাদাররা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হলেও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা তাদের সহযোগিতা করে থাকতে পারেন।
গাবতলী গরুর হাট কর্তৃপক্ষের সরকারি অফিস অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাংসের দাম বাড়ার পেছনে আরেকটি অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন এই মাংস ব্যবসায়ী।
তিনি বলেন, “গাবতলী গরুর হাট ইজারা নেওয়ার শর্ত হলো- প্রতিটি গরুর সরকার নির্ধারিত খাজনা হবে ১০০ টাকা। কিন্তু এই শর্ত না মেনে ইজারাদাররা অবৈধভাবে গরু প্রতি চার বা পাঁচ হাজার টাকাও আদায় করে থাকেন।”
রবিউল আলম বলেন, “এভাবে একটি গরু শহরের ভেতরে তিনটি হাটে স্থানান্তরিত হলেই গরুর দাম বেড়ে যায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা, যার প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে মাংসের দামের ওপর।”
তিনি বলেন, গাবতলী হাটের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খাজনা আদায় বাস্তবায়িত হলে অতি সত্বর মাংসের দাম কমে আসবে।
এই মাংস ব্যবসায়ী বলেন, “যদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খাজনা গ্রহণের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে আগামীকাল থেকেই কেজি প্রতি মাংসের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কমে আসবে।”
