শ্রাবণ মেঘের দিন সিনেমার ‘এক যে ছিল সোনার কইন্যা’ গানে অভিনয় করে সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ‘সোনার কন্যা’ নামে আলাদা পরিচিতি পান জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত সুবীর নন্দী। তার স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন শাওন।
‘সোনার কন্যা’ নামের সঙ্গে আমরা
তিনজন মিলেমিশে আছি
কিশোরী বয়স থেকেই হুমায়ূন আহমেদ আমাকে ডাকতেন ‘কুসুম’ নামে। তিনি আমাকে আরও একটা নাম দিয়েছিলেন। নিজে সেই নামে কোনোদিন না ডাকলেও একটি গান লিখে আমাকে সেই নামে তিনি মানুষের কাছে আলাদা একটি পরিচিতি দেন। এই নামটিও আমার কাছে বড় আদরের, ‘সোনার কন্যা’। এই নামে এখনো আমাকে অনেকে ডাকেন, বিশেষ করে দেশ-বিদেশের মঞ্চে, টিভিতে যখন কোনো অনুষ্ঠান করতে যাই উপস্থাপকরা প্রায়শই এই নামে আমাকে বিশেষায়িত করেন। একটি চরিত্রের নামে পরিচিতি পাওয়া সত্যিই যে কোনো শিল্পীর জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। সে নাম দিয়ে একটি গান লিখে ফেলেছিলেন আমার জন্য! আপনারা সবাই জানেন, ‘এক যে ছিল সোনার কইন্যা’ গানটি কী মধুর করে গেয়েছিলেন সুবীর নন্দী। তাই এই নামের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ, সুবীর নন্দী আর আমি, আমরা তিনজনই মিলেমিশে আছি। সেই থেকে সুবীর নন্দী আমার কাছে স্পেশাল।
স্মৃতির আয়নায় সুবীর নন্দী
১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখ গভীর রাতে আমার গ্রামের বাড়ি ‘নরুন্দি’র পুকুরঘাটে রুলটানা এক কাগজে ‘এক যে ছিল সোনার কইন্যা’ গানটি লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন হুমায়ূন। তার অল্প কিছুদিন পরই সাসটেইন রেকর্ডিং স্টুডিওতে মকসুদ জামিল মিন্টুর ঘোরলাগা সুরে এই গানটিতে প্রাণ দিলেন সুবীর নন্দী। অনেকেই হয়তো জানেন না, হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী ছিলেন তিনি। তার জাদুকরী কণ্ঠে ‘দুই চোখে তার আহারে কি মায়া..!’ লাইনটি শুনেই উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিল! ‘আহারে’ বলবার সময় সে কী মায়া মায়াÑ নরম তুলোর মতো মোলায়েম কণ্ঠের ভাব! বাংলা গানের কিংবদন্তি সুবীর নন্দীর গানের ডালিতে যুক্ত হয়ে গেল এই গানটি। কত লক্ষ কোটি বার এই গান তাকে করতে হয়েছে মঞ্চে!।
