কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০১:৫৪ এএম

যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না চলন্ত বাসে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা। এবার অভিযোগ উঠেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) নামে এক নার্স, যাকে হত্যাও করা হয়েছে। নিহত তানিয়া কটিয়াদীর  লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নার্সের চাকরি করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কেরগজারিয়া জামতলী নামক স্থানে একটি চলন্ত বাসে তানিয়াকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্বর্ণলতা নামের বাসটির চালক নূরুজ্জামান (৩৯), হেলপার লালন মিয়াসহ (৩৩) পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তানিয়া প্রথম রোজার সাহরি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করতে বাড়ি যাওয়ার জন্য সোমবার বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে স্বর্ণলতা পরিবহনে ওঠেন। বাসটি মহাখালী থেকে কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাতায়াত করে। এই বাসস্ট্যান্ড থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের পথ। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী আসা পর্যন্ত বাসটিতে ১৯ জন যাত্রী ছিলেন। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ১৬ জন নেমে যান। এ সময় বাসটিতে তানিয়া ছাড়া দুজন পুরুষ যাত্রী ছিলেন। বাসটি কটিয়াদী থেকে ছাড়ার পর অন্য দুটি স্টেশনে ওই দুই পুরুষ যাত্রীও নেমে যান। এরপর গাড়ির চালক ও হেলপার কৌশলে চার-পাঁচজনকে যাত্রীবেশে গাড়িতে তোলে। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক নীরব জায়গায় তারা তানিয়াকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তার মৃত্যুর পর তারা রাত পৌনে ১১টার দিকে মরদেহ কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তানিয়া দুর্ঘটনার শিকার বলে তারা তার লাশ ফেলে চলে যায়।

কটিয়াদী থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, তানিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগ, কাপড়-চোপড় পাওয়া গেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, পুলিশ রাতেই বাসটির স্থানীয় দুই কর্মীসহ তিনজনকে আটক করেছে। পরে তাদের সহায়তায় চালক নূরুজ্জামান, হেলপার লালন মিয়াকে আটক করা হয়। তারা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে একটি বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকরা। তারা রূপাকে ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে ফেলে যায়। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

রূপার ঘটনার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট টাঙ্গাইলে আবারও চলন্ত বাসে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই বছরের ৮ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে এক নারী পোশাককর্মী ধর্ষণের শিকার হন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি বরিশালে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন দুই নারী। এরও আগে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিক এক তরুণী (১৮) ধর্ষণের শিকার হন। এ ছাড়া গত কয়েক বছর রাজধানী ঢাকা, এর পাশর্^বর্তী নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এবং চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি স্থানে চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে জ্যোতি সিংহ পা-ে নামে ২৩ বছর বয়সী এক মেডিকেলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসের পরিচয় দেওয়ায় ভারতের গণমাধ্যম ওই ছাত্রীকে ‘নির্ভয়া’ নামে অভিহিত করে। ওই ঘটনার পর দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ। বিশ্বব্যাপী আলোচিত এ ঘটনায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় দিল্লি হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত