গুলিস্তানে বিস্ফোরিত বোমা সময় নিয়ন্ত্রিত আইইডি

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০৪:০২ এএম

রাজধানীর গুলিস্তানে গত ২৬ এপ্রিল রাতে বিস্ফোরিত বোমাটি ছিল হাতে তৈরি সময় নিয়ন্ত্রিত ‘ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ (আইইডি)। ঘটনাস্থল ও বিস্ফোরিত আইইডির আলামত বিশ্লেষণ করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটির বিস্ফোরণ

 ঘটিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য সদস্যরা।

গত সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে গুলিস্তানে ডন প্লাজার সামনের রাস্তায় বিস্ফোরণে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় সহজেই আইইডি ফেলে রেখে গিয়েছিল জঙ্গিরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুলিস্তানে বিস্ফোরিত ককটেলটি অনেক শক্তিশালী ছিল। আইএস যে দাবি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গতকাল সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিস্ফোরণস্থল থেকে চার ইঞ্চি ব্যাস ও চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে একটি পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পাইপ পুরোপুরি বিস্ফোরকে ভরা থাকলে অনেক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা বলেন, গুলিস্তান ডন প্লাজার সামনের রাস্তায় একটি গাছের নিচে সময় নিয়ন্ত্রিত আইইডি রেখে গিয়েছিল জঙ্গিরা। এর কিছুক্ষণ পরেই তা বিস্ফোরিত হয়। এতে গাছের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ঝলসে গেছে এবং ঘটনাস্থলের পাশে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জঙ্গিরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আইইডিতে সাধারণত যে ধরনের সার্কিট, তার, ডেটোনেটর ও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় তার সবই ছিল। তবে বিস্ফোরকের পরিমাণ কম থাকায় বড় আকারে বিস্ফোরণ হয়নি, যার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গুলিস্তানের বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কারা কী কারণে এটি ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত