কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা

৫ আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে মিলেছে ধর্ষণের আলামত

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ০২:২৯ এএম

কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল মামুনের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে বিচারক তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার বাবা গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্তে তানিয়াকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক রমজান মাহমুদ। তানিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার জাহান জানান, গত সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কিশোরগঞ্জের  বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনের বাসে তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে তার বাবার করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বাজিতপুর উপজেলায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে নার্স পদে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন তিনি।

তানিয়া হত্যা মামলায় গতকাল রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলো স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসচালক নূরুজ্জামান, চালকের সহকারী লালন মিয়া এবং পরিবহনটির স্থানীয় কর্মী রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া ও বকুল মিয়া।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সারোয়ার জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে চালক ও হেলপারসহ সন্দেহভাজন আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আটককৃত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চালাব।’

ময়নাতদন্তে মিলেছে ধর্ষণের আলামত : গত মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে তানিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক রমজান মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তানিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আঘাতজনিত কারণে তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।’

ডিএনএ ও প্যাথলজিক্যাল টেস্টের জন্য তানিয়ার মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত