বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বন্ধ তবুও ঘর ছাড়ছে না তারা

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০১:০৭ এএম

আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই চট্টগ্রামের ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঘরগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ। কিন্তু এরপরও বসতি ছাড়ছে না সেখানকার বাসিন্দারা।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাসকারী মোট ৮৩৫টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানি ঠেকাতে এসব পরিবারকে সেখান থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এসব ঘরে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে তিন শতাধিক ঘরের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি, কাট্টলী সার্কেল) মো. তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর এ কে খান পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ৭০টি পরিবারের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় ৫টি বৈদ্যুতিক মিটারও জব্দ করা হয়।

এর আগে গত ৪ ও ৫ মে নগরীর মতিঝর্ণা, বাটালিহিল ও লালখান বাজারে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক পরিবারের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জেলা প্রশাসনের অভিযান টিম। একই সঙ্গে ২৪টি বৈদ্যুতিক মিটার ও একটি অবৈধ পানির পাম্প জব্দ করা হয়।

তবে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাসকারীরা সেখান থেকে সরছে না। এক্ষেত্রে তারা স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রশ্রয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ৫ মে লালখান বাজার এলাকার পাহাড়ে অভিযান চালানোর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে সেখানকার অবৈধ বসবাসকারীরা। দুপুর ২টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা লালখান বাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে তারা। স্থানীয় কাউন্সিলর বিএনপি নেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি ও লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম অবরোধে সমর্থন দেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলা প্রশাসনের টিম সেখানে বৈধ বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেছে। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। রোজার মাসে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের আমি প্রতিবাদ করেছি।

তবে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় আর কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটুকÑ তা আমরা চাই না। এজন্য পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে যারা বসবাস করছে তাদের আমরা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর প্রাথমিক কাজ হিসেবে তাদের বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে কিছু প্রতিবন্ধকতা আসছে। তবে আমরা বদ্ধপরিকর। যত বাধাই আসুক প্রাণহানি এড়াতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত