ফখরুলের আসনে জিয়া পরিবারের কাউকেই চায় তৃণমূল বিএনপি

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০২:৪৯ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করবে কি না, তা জেলা বা তৃণমূল নেতাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে তারা সরকারের কাছে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জিয়া পরিবার থেকেই কাউকে প্রার্থী  করতে দলীয় হাইকমান্ডকে বলছেন তারা। দলটির তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মির্জা ফখরুল বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচ এমপি গত ২৯ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিলেও তিনি শপথ নেননি। এ কারণে গত ৩০ এপ্রিল এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর গত বুধবার এ উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। একই দিন বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাহ রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ উপনির্বাচনে ভোট হবে আগামী ২৪ জুন; সকাল ৯টা থেকে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৩ মে, বাছাই ২৭ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুন ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ৪ জুন। এবারই প্রথম হাতে হাতে ছাড়াও প্রার্থীরা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার সাতটি আসনই দীর্ঘদিন তাদের দখলে ছিল। দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনে টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। দুবার উপনির্বাচনেও আসনটি বিএনপির হাতেই থাকে। তবে ২০১৪ সালে দলটি নির্বাচন বর্জন করায় মহাজোটের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৮৬ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আসনটি পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হয়েছিল আওয়ামী লীগ।

স্থানীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীরই প্রত্যাশা, বগুড়ায় যেহেতু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি সে কারণে ওই পরিবারের কোনো সদস্যকেই যেন উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয়। নামুজা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আবদুল হান্নান, নুনগোলা ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম, এরুলিয়া ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনসহ তৃণমূল কর্মীদের দাবি, আসন্ন উপনির্বাচনে জিয়া পরিবারের থেকেই কাউকে প্রার্থী করা হোক। তাদের দাবির সঙ্গে একমত জেলা বিএনপির সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি আলী আজগর তালুকদার হেনাও। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব যে আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, সেখানে উপনির্বাচনে তার নিচের পদের কেউ নির্বাচন করবেন বলে মনে হয় না। যেহেতু বগুড়া বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা, তাই জনগণের প্রত্যাশা খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আইনি জটিলতায় সেটি যদি না হয়, তাহলে অবশ্যই বগুড়াবাসী চায় জিয়া পরিবারের কেউ এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আমরা বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এই উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় যেকোনো সিদ্ধান্তই মেনে নিতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাশার বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কৌশলে একাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। এবার দলের মহাসচিব শপথ না নেওয়ায় বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকার চাইলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনিই বগুড়ায় বিএনপি প্রার্থী হবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা আশা করছে।’

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান বলেন, ‘খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক থাকায় বিগত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এবার যেহেতু উপনির্বাচন আসন্ন, তাই বগুড়ার ছাত্র-জনতার দাবি তাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।’

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে এই নির্বাচনকে ঘিরে যে সিদ্ধান্তই আসবে দলের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেন। তবে এবারের নির্বাচনে অবশ্যই খালেদা জিয়া বিএনপিকর্মীদের একমাত্র প্রার্থী বলেই আমরা মনে করি।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত