খুলনায় শ্রমিকদের অবরোধ সপ্তম দিনে

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০১:১৮ এএম

বকেয়া মজুরি প্রদান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার টানা ৭ম দিনের মতো আন্দোলনে নামে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। একই দাবিতে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়ে তিন ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করে। অবরোধ চলাকালের শ্রমিকরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। ফলে খুলনা-যশোর মহাসড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধ শেষে শ্রমিকরা রাজপথে নামাজ আদায় ও ইফতারি করে। গত ৫ মে থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা।

শ্রমিক নেতারা জানান, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। বিকেল ৪টা থেকে ৭টা খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত  পাটকলে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করেছে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশ (বিজেএমসি) খুলনা কার্যালয় সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ১৩ হাজার ১৭০ জন স্থায়ী শ্রমিক এবং ১৭ হাজার ৪১৩ জন বদলি শ্রমিক রয়েছেন। মিলগুলোতে উৎপাদিত প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার পাটপণ্য অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। মিল ভেদে এই পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের ৮ থেকে ১১ সপ্তাহের এবং কর্মচারীদের তিন থেকে চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। মজুরি বকেয়া রয়েছে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন জানান, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা ৭ থেকে ৯ সপ্তাহের মজুরি না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত