খালেদা জিয়ার জন্য কেরানীগঞ্জ নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার প্রস্তুত করা হয়েছে। তিন বছর আগে চালু হওয়া এই কারাগারের ভেতর নারী বন্দিদের জন্য নির্মিত তিনটি ভবনের একটিতে তাকে রাখা হবে। এই একতলা ভবনের একটি কক্ষে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে থাকবেন খালেদা জিয়া। তবে ঠিক কবে নাগাদ তাকে এই কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে, সে ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম।
এই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। যেকোনো সময় বন্দিকে গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরানীগঞ্জ কারাগারের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩০০ নারী বন্দির জন্য কারা কর্তৃপক্ষ একটি কম্পাউন্ড তৈরি করেছে। সেখানে দুটি চারতলা ভবন আর একটি একতলা ভবন রয়েছে। একতলা ভবনটি কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে। সেখানে ডিভিশনপ্রাপ্ত ভিভিআইপি বন্দিদের রাখা হবে। এই ভবনের একটি সেলেই থাকবেন খালেদা জিয়া।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ হলে খালেদা জিয়াকে আর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেওয়া হবে না, তাকে কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হবে গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এ কথা বলেন। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরপরই খালেদা জিয়াকে কবে নাগাদ কেরানীগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে, এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
খালেদা জিয়াকে স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে অস্থায়ী এজলাস বসানো হয়েছে। গতকাল সেই এজলাসে বসে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবার পিছিয়ে ১৮ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এখন থেকে এই এজলাসে খালেদা জিয়ার মামলার বিচার হবে।
কেরানীগঞ্জ কারাগারের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, যে ভবনে খালেদা জিয়াকে রাখা হবে, সে ভবনের সমস্ত কাজ শেষ। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখানে জেল কোড অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন খালেদা জিয়া। এক মাস আগে আইজি (প্রিজন) এই ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
কবে নাগাদ খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ঠিক নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। শুধু প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। এমন হতে পারে আগামী ১৮ মে আদালতে হাজিরার যে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেদিনও স্থানান্তর করা হতে পারে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- ও অর্থদন্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
এর আগে ২৭ মার্চ এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে ‘শিগগিরই’ কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছেন তারা। এর চার দিনের মাথায় গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই তিনি কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে আছেন।
