ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের সংঘর্ষকে ‘ছোট ঘটনা’ বলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার কড়া সমালোচনা করেছেন সংগঠনটির নেত্রীরা। সদ্যঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিল ও মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনের নেত্রীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এই সমালোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ছাত্রলীগে সক্রিয় পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ারা।
মানববন্ধনকারীদের হাতে বিভিন্ন ফেস্টুনে ‘আমাদের বোনদের ওপর হামলা কেন, বিচার চাই’, ‘অবৈধ কমিটি মানি না’, ‘অছাত্রদের, আদু ভাইদের কমিটি মানি না’, ‘ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কৃতদের কমিটি মানি না’, ‘বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগে অছাত্রদের স্থান নেই’, ‘চাকুরীজীবী ব্যবসায়ীদের কুটিল কমিটি মানি না’ লেখা স্লোগান দেখা যায়। তারা ঘোষিত কমিটি বাতিল করে যোগ্যদের স্থান দেওয়া এবং হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন। মানববন্ধনে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার ধানমণ্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ সামান্য ঘটনা। মধুর ক্যান্টিনের মারামারির ঘটনা নিয়ে আমার মনে হয় যে, খুব বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করার কিছু নেই।’ মানববন্ধনে প্রসঙ্গটি টেনে ছাত্রলীগের শামসুন্নাহার হল শাখার সভাপতি ও নতুন কমিটিতে উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ পাওয়া নিপু তন্বী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে সম্মান প্রদর্শন করে জানতে চাই, মধুর ক্যান্টিনের ঘটনাটি কোন পর্যায়ে গেলে তাদের কাছে মনে হতো, এটি বিশাল আকারের ঘটনা? আমাদেরকে আর কতটুকু লাঞ্ছিত করলে তাদের কাছে মনে হতো ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? আমরা মারা যাওয়ার পরে কি ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পেত?’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় সংগঠনেরই কিছু ছোট-বড় ভাই দ্বারা নির্যাতিত হই। এরপর আর কোনো মা-বাবা-ভাই-বোন ছাত্রলীগ করার জন্য তাদের ঘরের সন্তানকে পাঠাবে না। নারীনেত্রীরা বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর কত নারী নেত্রীর ওপর আঘাত আসলে টনক নড়বে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের। আমরা কবে নিষ্কৃতি পাব।’
রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তার বলেন, ‘অনেকেই ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমাদের উদ্দেশ্য যারা কমিটিতে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরকে বাদ দিয়ে দক্ষ ও যোগ্যদেরকে নিয়ে কমিটি করা।’ নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া ছিল। আগামীকাল (আজ) এটি শেষ হবে। তারপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
লিপি আক্তার বলেন, ‘যারা ছাত্রলীগকে কলুষিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব। আমার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারলে মাথা সরিয়ে নিই, সেটি গিয়ে লাগে রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার চোখের পাশে।’
বিতর্কিতদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা : ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে পদবঞ্চিতরা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে পদবঞ্চিতদের অন্যতম ও সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যারা বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত তাদের বিরুদ্ধে আমরা তালিকা তৈরি করছি। দ্রুতই তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ এদের সংখ্যা শতাধিক বলে জানান সাইফ বাবু।
ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, কবি জসীমউদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা, সাধারণ সম্পাদক শারজিয়া শম্পা প্রমুখ।
