প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক-ইনের (বিক্রয় কিংবা স্থানান্তর নিষেধাজ্ঞা) মেয়াদ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসব শেয়ারে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বিষয়ে অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার পর ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) মতামত পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিবিএ, বিএমবিএ’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিএসইসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি পরিচালক ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন, সেসব পরিচালকের পদ শূন্য করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তা পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণ না দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার সিডিবিএলে ব্লক করে রাখা হবে।
তবে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব কোম্পানির জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে আলাদা ক্যাটাগরি চলতি মাসের মধ্যেই করে দেওয়া হতে পারে।
গতকাল এসইসি কার্যালয়ে স্টেকহোল্ডারদের আলোচনা সূত্রে জানা গেছে, প্লেসমেন্ট শেয়ারে নিষেধাজ্ঞা এক বছর হবে নাকি তিন বছর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। চলতি মাসের মধ্যেই ডিবিএ এই বিষয়ে মতামত দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে এসইসি। প্লেসমেন্ট শেয়ারের মেয়াদের বিষয়টি জনমত যাচাইয়ের জন্য এসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আইপিওতে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনীর কারণে স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনেও পরিবর্তন আসছে। তবে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে, সে বিষয়ে আগামী সোমবারের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। এরপরই স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনে পরিবর্তন আনবে বিএসইসি। আইপিওর চেক লিস্ট সংশোধন ও ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর ডিএসই ও সিএসই আইপিওতে মতামত এক মাসের মধ্যে দিতে হবে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে এসইসি জানায়, আইপিওর আগে মূলধন উত্তোলন বা প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুতে কোনো অতালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এসইসির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইপিওতে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে পারত কোম্পানিগুলো। এসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকার বা ৫ কোটি শেয়ার ছাড়তে হবে। এ ছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ বা এর মধ্যে যেটি বেশি হয়, সে পরিমাণের শেয়ার ছাড়তে হবে। এ ছাড়া বুক বিল্ডিংয়ে ডাচ অকশন পদ্ধতি আরোপ করা হবে। এর অর্থ যে, নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা শেয়ার দরের যে প্রস্তাব করবে, তাদেরকে সেই দরেই শেয়ার নিতে হবে। এ ছাড়া আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। গতকাল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এসব বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
