সভায় নজরুল ইসলাম খান

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আনন্দ করছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ০৪:২৫ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আনন্দ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে কৃষক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা আনন্দ করুক। বিএনপি আনন্দ করবে সেদিন, যেদিন মানুষ রাস্তায় নেমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অনেক কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে কেউ কিছু করছেন না। কী করা দরকার,

এ বিষয়ে কারও বুদ্ধির অভাব নেই। তবে সেই বুদ্ধির কাজটা করার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। ভাসানীর সময় যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সবসময় তিনি অংশগ্রহণ করতেন। মাওলানা ভাসানী জনগণের জন্য কথা বলতেন, জনগণের জন্য কাজ করতেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখানে একজন বলেছেন, আত্মাহুতি দেওয়া দরকার। আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য কারও অনুমতি লাগে না কি? আমি যদি আত্মাহুতি দিতে চাই, তা হলে একা একাই আত্মাহুতি দিতে পারি। কিন্তু আপনার মৃত্যু তো আমার চাওয়া নয়। আমার চাওয়া হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। আর তার মুক্তির জন্য আপনার মরার দরকার নেই, সাহস করে রাস্তায় আসেন। চলেন এক সঙ্গে রাস্তায় নেমে মিছিল করি। তা হলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এই দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র নেই। আজ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়া সেনাপতি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার উন্নয়ন উন্নয়ন বলে গলা ফাটাচ্ছে। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু তা অসম উন্নয়ন। যারা ধনী তারা আরও ধনী হচ্ছেন। এদেশে বর্তমানে ধনীরা যে হারে আরও ধনী হচ্ছেন সে হারে চীন ও আমেরিকার ধনীরাও ধনী হচ্ছেন না। এ রকম অসম উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে একসময় দেশে বিলাসবহুল পণ্যের ছড়াছড়ির সঙ্গে গরিবের লাশের ছড়াছড়ি দেখা যাবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুপ্রতিম দেশ। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যেসব চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে এত যুদ্ধ এত বৈরিতা, কিন্তু তাদের মধ্যেও তো পানি চুক্তি আছে এবং তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ফারাক্কা চুক্তির কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না?

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, জামাল উদ্দীন খান মিলন, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ। সংগঠনের সদস্য এস কে সাদী সভা সঞ্চালনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত