কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় একটি গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতির টাকায় মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের চল্লিশ দিনের কর্মসূচির ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ধলা ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য দক্ষিণ সেকান্দরনগরের চরপাড়া গ্রামে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান ও গ্রামরক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১২৫ দুস্থ শ্রমিকের চল্লিশ দিনের কাজের সুযোগ ছিল।
কিন্তু ইউপি সদস্য চান মিয়া (প্রকল্পের সদস্য সচিব) ও প্রকল্পের সভাপতি সালতু মিয়া মিলে ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতির অর্থায়নে মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্পূর্ণ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে সম্প্রতি ইউপি সদস্য চান মিয়ার বিরুদ্ধে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী।
সেকান্দরনগর গ্রামের মতি মিয়া জানান, ‘১০ লাখ টাকার প্রকল্প আসার আগেই আমাদের গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতির অর্থায়নের মাধ্যমে গ্রামরক্ষা বেড়িবাঁধে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাটি কাটিয়ে বেড়িবাঁধ মেরামত করি। ইউপি সদস্য চান মিয়া ও প্রকল্পের সভাপতি সালতু মিয়া এ সুযোগটি ব্যবহার করে আমাদের অজান্তে এই বেড়িবাঁধের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প আনেন। পরে আমাদের সমিতির টাকায় কাটা মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে কোনো কাজ না করিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া শ্রমিকের তালিকা সাজিয়ে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।’
প্রকল্পের সভাপতি সালতু মিয়া ও স্থানীয় ইউপি সদস্য চান মিয়া তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা গ্রামের পঞ্চায়েত সমিতির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে প্রকল্পের মাটি কাটিয়েছি। পরে সমিতির টাকা আমি পরিশোধ করে দিয়েছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল আলম বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাড়াইলে যোগদান করেছি। এ প্রকল্পটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সালমা আক্তার। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’
সালমা আক্তার তাড়াইল থেকে বদলি হয়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক মাহমুদ বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
