বগুড়ায় বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে একাংশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল এবং বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
সম্প্রতি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতাকর্মীরা ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে ক্রমান্বয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে ১৬ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা বুধবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে। একই সময় আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উভয় পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পরে আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন নেতা বহিষ্কৃৃত নেতাদের ডেকে নিয়ে পরিস্থিতি নিরসনে সমঝোতা বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেন। তারা সেই প্রস্তাবে রাজি হলে আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান। পরে বহিষ্কৃৃত অংশের নেতারা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু। তিনি ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জি এম সিরাজকে আওয়ামী লীগের এজেন্ট এবং ওয়ান ইলেভেনে সংস্কারপন্থি উল্লেখ করে ওই কমিটি বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে অতি সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করা ১৬ জন নেতাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বহিষ্কৃতদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিমল কুমার দাস বলেন, যেসব নেতাকর্মী বিএনপির দুর্দিনে মাঠে ছিল আহ্বায়ক কমিটিতে তাদের স্থান হয়নি। এ কারণে তারা বিক্ষোভ করলে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে গত এক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছে। ইতিমধ্যে আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন সিনিয়র নেতা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দল থেকে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারাও এই দলেরই লোক। তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি সাময়িক। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই তাদের বিষয়ে কথাও হয়েছে। এখন বহিষ্কার হওয়া নেতাদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
