ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃণমূল কংগ্রেস ২২ ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেয়েছে ১৯টি আসন। রাজ্যের দীর্ঘদিনের শাসক বামপন্থিরা একটি আসনও পায়নি। রাজ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, গত পাঁচ বছরে কী এমন ঘটল রাজ্যে, যাতে আগের তুলনায় ১৭টি বেশি আসন পেয়েছে বিজেপি।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ৩৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। অর্থাৎ ১০টি আসন হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের।
২০১৬ সালের পর থেকে যেভাবে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে বিজেপি তাদের ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা অনুমেয় ছিল। একসময় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ছিল রাজ্যে তাদের ক্ষয় অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সালে বামদের পতনের পর রাজ্যের জনগণ যে বিকল্প শক্তির সন্ধান করেছিল, তা তারা বিজেপির মধ্যে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছে এবারের নির্বাচনে।
প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার শুভাশীষ মৈত্র বলেন, ‘২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে যত ভোট হয়েছে রাজ্যে সবক্ষেত্রেই বিজেপি দ্বিতীয় স্থানটা ধরে রাখছে। কোথাও তৃতীয় হলেও সেটা খুব কম মার্জিনে। কথা হলো বিজেপির দিকে ভোটটা আসছে কোথা থেকে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কমছে না, উল্টো বাড়ছে। আবার প্রতিষ্ঠিত দুটি রাজনৈতিক শক্তি ছিল বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস, তাদের যতটা ভোট কমছে, সেই ভোটই বিজেপির দিকে যাচ্ছে। তাই কংগ্রেস আর বামদের ভোটই মোটামুটিভাবে বিজেপি পাচ্ছে এটা বলা যায়।’
২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের দুটি উপনির্বাচনেও দ্বিতীয় স্থান দখলে সমর্থ হয়েছিল বিজেপি। ওই নির্বাচন নিয়ে শুভাশীষ মৈত্রের ভাষায়, ‘বীরভূম বা কোচবিহারের মতো কয়েকটি জেলা থেকে খবর পেয়েছি, সেখানে মুসলমানদের একটা অংশ যারা কোনো কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘোরতর বিরোধী, তারাও কিন্তু বিজেপির দিকে গেছেন। যদিও এটা রাজ্যের সার্বিক চিত্র নয় এবং ওইসব অঞ্চলে মুসলমানদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কিছু ইস্যুই মূলত কাজ করেছে।’
