পদ্মা সেতুতে বসল আরেকটি স্প্যান দৃশ্যমান ২ কিমি

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ০২:৩৫ এএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে গতকাল শনিবার সকালে পদ্মা সেতুর ১৩ নম্বর স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেতুর ১ হাজার ৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর এ স্প্যান বসানো হয়।

প্রকৌশলীদের কাছ থেকে জানা যায়, স্প্যানটি বসেছে দু’দিনের চেষ্টায়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে কয়েকবার। তবে এভাবে একের পর এক স্প্যান বসিয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে চলছে সেতুর। দ্বাদশ স্প্যান (অস্থায়ী) বসানোর ১৯ দিনের মাথায় স্থায়ীভাবে বসল এই স্প্যানটি।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লৌহজং উপজেলার মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৩-বি নামে স্প্যান নিয়ে রওনা হয় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্প্যান নিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছে। পরে বৈরী আবহাওয়ায় আলোক স্বল্পতার কারণে শুক্রবার দুপুরে স্প্যান বসানোর কাজ স্থগিত করা হয়। একদিন বাদে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু করেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে সক্ষম হন তারা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর ত্রয়োদশ স্প্যান বসানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে সক্ষম হন প্রকৌশলীরা। আর এ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ১ হাজার ৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসেই শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের মাঝামাঝি ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর সেতুর দ্বাদশ স্প্যান বসানো হয়েছিল। এখন প্রতি মাসেই এক থেকে একাধিক স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এতে করে পদ্মা সেতুর মহাকর্মযজ্ঞে গতিশীলতা এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল। চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যান বসে। এরপর থেকে একের পর এক স্প্যান বসতে থাকে পদ্মা সেতুতে। শনিবার সর্বশেষ ত্রয়োদশ স্প্যান বসানো হলে পদ্মা সেতুতে বসতে বাকি থাকল আরও ২৮টি স্প্যান।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। দোতলা আকৃতির এ সেতু কংক্রিট ও স্টিলের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু নির্মাণের মহাকর্মযজ্ঞ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি নামে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে। এ ছাড়া একই দেশের প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করছে নদী শাসনের কাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত