বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের গেজেট বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল তার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন। খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল জানান, আজ সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
কায়সার কামাল আরও জানান, পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালত-৯ কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে স্থানান্তরে গত ১২ মে আইন মন্ত্রণালয় যে গেজেট জারি করেছিল তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে নাÑ এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। আর রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে রিটে বিবাদী করা
॥হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কারাগারের অভ্যন্তরে বিচারকাজ বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেকোনো মামলায় পাবলিক ট্রায়াল হতে হবে বলে বিধান রয়েছে। এসব যুক্তিতে এই রিট আবেদনটি করা হয়েছে।’
এর আগে গত ১২ মে ওই গেজেট বাতিল চেয়ে আইন সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে জানানো হয়, ওই গেজেট বাতিল করা না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রিট আবেদনটি করা হলো।
গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর ও অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে রাখা হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হলে গত ৩০ অক্টোবর এক রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট। এর আগের দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। কারাবন্দি খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন।
