জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল মঙ্গলবার জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। জাপান থেকে সৌদি আরব সফর শেষে ফিনল্যান্ড যাবেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রবিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৮ মে জাপানের বিখ্যাত গণমাধ্যম ‘নিকে’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগিতা চুক্তি সই হবে। এই অর্থ দিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎ প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস র্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটিসহ মোট পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা জাপানের সহযোগিতা চাইব। জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছে ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। আবদুল মোমেন বলেন, ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী জাপান থেকে সৌদি আরব যাবেন। ৩১ মে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী শহর মক্কায় আয়োজিত ১৪তম ওআইসি
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। একমাত্র নারী সরকারপ্রধান হিসেবে এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন শেখ হাসিনা। সেখানে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব সফর শেষে ফিনল্যান্ড যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফর সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এবারের ওআইসি সম্মেলনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ সম্মেলনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ মোট ১৪৮টি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মামলা করার প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যে ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করা যায়, বিশ্বব্যাপী যে ‘ইসলাম ফোবিয়া’ তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণের উপায়, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনবিষয়ক ওআইসি এজেন্ডা প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং প্যালেস্টাইন ও আলকুদস বিষয়ে প্যালেস্টাইনিদের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকারের বিষয় আলোচনায় বরাবরের মতোই গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
