দেশে ‘ব্যবসায়’ আগ্রহী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ০২:০৭ এএম

বাংলাদেশে শাখা খুলে ‘শিক্ষা ব্যবসা’ করতে চায় বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়। গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় প্রায় দেড়শ বিশ্ববিদ্যালয় থাকার পরও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদন দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

যদিও ৫ বছর আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিদেশি ক্যাম্পাস অনুমোদন না দিতে আইনের ওই ধারা স্থগিত করে সরকার। বিদেশি ক্যাম্পাস অনুমোদন দিলে ধারাটির স্থগিতাদেশ তুলে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গত এপ্রিলে দেশে বিদেশি ক্যাম্পাস অনুমোদন দেওয়া বিষয়ে একটি সভা করেন। এরপর বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির অপর    

 

দুই সদস্য হলেনÑ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও ইউজিসির সচিব মো. খালেদ। এরই মধ্যে কমিটি সভা করেছে। তাদের এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে কমিটি সময় বাড়ানোর আবেদন করবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সোহরাব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে ইউজিসির এক সদস্যের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

ইজিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেলাঙ্গর কর্র্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. নর বিন নাওয়াই ইউজিসির তখনকার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ৫ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়কমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড দু’দিনের সফরকালে ঢাকায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সর্বশেষ গত ২১ মে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মোল্ল্যার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার প্রস্তাব দেন। মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ও একাধিকবার বাংলাদেশে শাখা খোলার আগ্রহ দেখিয়েছে।

এদিকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নিয়ে যেখানে নানা প্রশ্ন এবং দেড়শ প্রতিষ্ঠান দেখভাল করতে ইউজিসি হিমশিম খাচ্ছে; এই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিলে লেজেগোবরে অবস্থার আশঙ্কার কারণে এতদিন অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। এছাড়া অনুমোদন না নিয়েই কৌশলে কিছু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। ইউজিসি কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে চলা ৫৬টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের মে মাসে ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-ছক’ জারি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ২০টির বেশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে শাখা বা স্টাডি সেন্টার চালুর আবেদন করে। এর মধ্যে ইউজিসি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি দেয়। ওই বিধিমালায় এমন কিছু বিধান ছিল যাতে যেনতেন বিশ্ববিদ্যালয়ও শাখা খোলার সুযোগ পেত। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা চালু না করতে চাপ ছিল। এই পরিস্থিতিতে তখন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা অনুমোদনের পথ বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে ইউজিসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এগুলো অতিমাত্রায় ব্যবসায়িক মনোভাবের। বিদেশি ক্যাম্পাাসগুলোরও টার্গেট এদেশে ব্যবসা করা। কারণ এ দেশে ব্যবসাটা ভালো হয়। বিদেশি ক্যাম্পাস অনুমোদন দিলেও ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দেওয়া উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত