পরিবারের সঙ্গে ইফতার হয় না রাজনৈতিক নেতাদের

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ০২:৩৬ এএম

সারা দিন সিয়াম সাধনা শেষে সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করতে পারার আনন্দটা অন্যরকম। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা যাতে বাসায় ইফতার করতে পারেন সেজন্য কর্মঘণ্টাও কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে সমাজের প্রায় সবার পক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিদিনই ইফতার করার সুযোগ মিললেও বঞ্চিত থাকেন রাজনৈতিক দলের প্রায় সব নেতাই। খুব কম নেতাই রয়েছেন যারা স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ইফতার করতে পারেন। এমন অনেক নেতাও রয়েছেন এবার রমজানে এ পর্যন্ত এক দিনও পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারেননি। কারণ রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের ইফতারেও যোগ দিতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে মন খারাপ হলেও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। তারা জানান, তাদের কাছে সবার আগে গণমানুষ। তাই রোজার মাসে অনেকেই পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন না। কারণ, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইফতার আয়োজনে যোগ দিতে হয়। রোজা শেষদিকে চলে এলেও এক দিনও বাসায় ইফতারের সুযোগ মেলেনি তাদের অনেকের।

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যারা রাজনীতি করে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে ইফতারের সুযোগ কমই হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইফতারিতে দাওয়াত থাকে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২২টি রোজার মধ্যে মাত্র এক দিন বাসায় ইফতারের সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি। দলটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাসায় ইফতারের সুযোগ হয়নি ২১ রমজান পর্যন্ত। তিনি বলেন, বাসায় তো ইফতার করার সুযোগ হয় না। আবার বাইরের সব ইফতারের দাওয়াতেও যেতে পারি না। হানিফ জানান, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, রাজনীতিবিদদের পরিবারের সদস্যরা এই না পাওয়াতেও অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, দেখা যাক সেখানে পরিবারের যারা বসবাস করেন তাদের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয় কি না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের কারোই বাসায় বসে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার কোনো সুযোগই নাই। রমজানের ৩০ দিনে ৩০টি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারি। কিন্তু দাওয়াত পাই শতাধিক। ৩০টির বাইরে যেগুলোতে যেতে পারি না তারা মনে কষ্ট পায়। তিনি বলেন, আমদের জীবন নিজের জন্য নয়, হয়ে গেছে মানুষের জন্য। এসব পরিস্থিতিতে কষ্ট পেতে পেতে পরিবারের সদস্যরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাদের কাছে এই প্রত্যাশা শিকেয় তোলার মতো হয়ে গেছে। প্রায় কাছাকাছি অনুভূতি প্রকাশ করেন ফারুক খান, কাজী জাফরুল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, দেলোয়ার হোসেনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অন্তত ১২ জন নেতা।

জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজের-পরিবারের বলতে কোনো সময় নেই। চাকরিজীবীরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে বাসায় যান ছুটির আমেজ নিয়ে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব ২৪ ঘণ্টাই। যখনি যেখানে ডাক পড়ে ছুটে যেতে হয়। এটা পরিবারের সদস্যরা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। একই অনুভূতি প্রকাশ করেন জাসদ আরেক অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তারও।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, রাজনীতি নেই। তাই মাঝে মধ্যে সময় পাচ্ছেন। সেই সময়টা পরিবারকে দিচ্ছেন, ইফতারও করছেন। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার কর্মসূচি নেই। কারণ দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে সরকারি দল ছাড়া অন্য কেউ কর্মসূচি পালন করতে পারে না। তাই এবার সময় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সময় পেলে বাসায় সময় কাটাচ্ছেন। ইফতারিও করছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এবার সময় বেশি পাওয়া গেছে। পরিবারকে সময় দিতে পারছেন। এলাকায়ও যাচ্ছেন মাঝে মধ্যে। ঈদ করবেন এলাকা ও ঢাকা মিলে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবার পরিবারকে সময় দিতে পারেননি। দিতেও পারবেন না। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, এখন চট্টগ্রামে নির্বাচনী এলাকায় আছেন। ইফতার পার্টি দিচ্ছেন। পরিবারকে সময় দিতে পারছেন। কারণ রাজনীতি নেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। কারণ তাকে দলের নির্দেশে কার্যালয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে পরিবারের সদস্যরা কার্যালয়ে আসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত