একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে এনসিসি (ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজুসহ (৬৭) ফেনীর তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৭০তম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তিনটি ভলিউমে ৯১ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান ও সহ-সমন্বয়ক সানাউল হক খান। তারা জানান, তদন্ত সংস্থায় ৬৮৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের তালিকা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পলাতক তোফাজ্জল ছাড়াও এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মো. আবু ইউসুফ (৭১) ও নুর মোহাম্মদ ওরফে এম নুর আহমদ (৭৩)। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফেনী সদরের উত্তর গোবিন্দপুর ও ফকিরহাটবাজারে হত্যা, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো অপরাধের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ২১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেন মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোফাজ্জল একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ-সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর তিনি এর বিরোধিতা করে ফেনীর রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন। একইভাবে ফেনী সদরের রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন জামায়াতকর্মী ইউসুফ ও জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত নুর মোহাম্মদও।
তদন্ত সংস্থার সহ-সমন্বয়ক সানাউল হক খান বলেন, ‘আসামি তোফাজ্জল হোসেন এলাকায় তজু রাজাকার নামে পরিচিত। এ মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কারণ তজু একজন শিল্পপতি, ব্যাংকার ও অর্থবিত্তের অধিকারী। তিনি বারবার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।’
