ঈদে স্বজনদের সঙ্গে পছন্দের খাবার খেলেন খালেদা

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ০২:১৮ এএম

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ঈদ করেছেন। গত বুধবার ঈদের দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনদের নেওয়া ঈদের খাবার কারা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন স্বজনদের নিয়ে ঈদের খাবার খান। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দুই ঘণ্টা সময় কাটিয়ে বেলা পৌনে ৩টার দিকে বেরিয়ে যান স্বজনরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে জানান, ঈদের দিন তাদের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। স্বজনদের নেওয়া পছন্দের খাবার খেয়েছেন। নাতনিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তার স্বাস্থ্য ভালো নেই। সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। 

দুর্নীতির মামলায়  নিয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া গত ১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রয়েছেন। ঈদে শুধু সাতজন নিকটাত্মীয়কে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন বোন সেলিনা ইসলাম, তার স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভীক এস্কান্দার, ভাগনে সাইফুল ইসলাম ডিউকের মেয়ে তামান্না হক, প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি মোখরেমা রেজা ও তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দু।

বেলা পৌনে ১টার দিকে খালেদা জিয়ার এই সাত স্বজনকে বিএসএমএমইউর  ছয়তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সেরে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয় খালেদা জিয়ার কেবিনে। স্বজনরা পোলাও, মুরগির রোস্ট, রেজালাসহ বিভিন্ন মাছ ভাজা নিয়ে যান খালেদা জিয়ার জন্য; সঙ্গে ছিল দুধ-সেমাই ও মিষ্টি। তাদের হাতে ছিল গোলাপের তোড়া।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন সকালে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি খেতে দেয়। এর সবই ঢাকা কেন্দ্রীয় (কেরানীগঞ্জ) কারাগারের কারারক্ষীদের তৈরি। তবে খালেদা জিয়ার খাবার অন্য কয়েদিদের মতো নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী তৈরি করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গত দুই ঈদ পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটলেও এবার তাতে ভিন্নতা আসে। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএসএমএমইউতে তার কেবিনে একটি চেয়ার, একটি টেবিল, একটি বেড ও ড্রেসিং টেবিল রয়েছে। গৃহকর্মী ফাতেমা থাকেন পাশের আরেকটি কক্ষে, যিনি তার সেবা করেন।

এবার ঈদে বিএনপির নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনুমতি পাননি বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকদের তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঈদের দিনও তাদের নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়া জেল কোডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত বছর ঈদের দিনও নেতাকর্মীদের পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার ঈদের দিন দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের বিএসএমএমইউ শাখার সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম সেলিমসহ কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী একটি ফুলের তোড়া নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়। মহিলা দলের ২০-৩০ জন নেতাকর্মীকে বৃষ্টির মধ্যে নিচে দাঁড়িয়ে ছয়তলায় তাদের নেত্রীর কেবিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। বিএসএমএমইউর রোগীদেরও কেবিন ব্লক দিয়ে যাওয়ার সময় উৎসুক দৃষ্টিতে খালেদার কেবিনের দিকে তাকাতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপারসনের খবরও জানতে চান।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত