জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ঢাকা ও হেলসিঙ্কির একসঙ্গে কাজ করায় সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তো। গত মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দেশটির প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে এক বৈঠকে তারা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক (সচিব) মো. নজরুল ইসলাম। তথ্যসূত্র : বাসস নজরুল ইসলাম আরও জানান, শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডে তার পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষ করে আজ শনিবার দেশে ফিরবেন। সকালে হেলসিঙ্কির
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন কামনা করেন শেখ হাসিনা। এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে গেলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশের ‘ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স ফান্ড’ গঠনের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
বৈঠকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে, বিশেষ করে উপকূল বরাবর সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান শেখ হাসিনা। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান ঘটলে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। রোহিঙ্গা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং রোহিঙ্গা জনগণের বিপুলসংখ্যক লোককে আশ্রয় দেওয়া খুব কঠিন। মিয়ানমার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখেনি।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক নির্বাসনের পরেও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এই বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে।
সরকারের ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা যদি চান, তবে তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকতে পারে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফিনল্যান্ডের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফিনল্যান্ড দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ও পরে বাংলাদেশে যে পরিমাণ সহায়তা ও সহযোগিতা করেছিল, তা আমরা সব সময় মূল্যবান বলে মনে করি।’
এদিকে ফিনল্যান্ডের রাজধানী থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম জানান, কাতার এয়ারলাইনসের একটি বিমান ফিনল্যান্ড সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দোহার উদ্দেশে হেলসিঙ্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। কাতারের রাজধানী দোহায় কিছুক্ষণের যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বিমানটি আজ সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
জানা গেছে, ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ৪ জুন ফিনিস প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ৫ জুন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ ও ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন। এর আগে সৌদি আরবে তিন দিনের সফর শেষে শেখ হাসিনা ৩ জুন জেদ্দা থেকে হেলসিঙ্কি পৌঁছান। সৌদি আরবে তিন দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সে দেশের বাদশাহর আমন্ত্রণে মক্কায় অনুষ্ঠিত ১৪তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গত ২৮ মে জাপানের রাজধানী টোকিও যান। জাপানে চার দিন অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আড়াই বিলিয়নের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিসহ ৪০টি ওডিএ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘ফিউচার ফর এশিয়া’বিষয়ক নিক্কেই সম্মেলনেও যোগ দেন।
