ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর গুলিতে রাজ্য বার কাউন্সিলের প্রথম নারী সভাপতি দরবেশ যাদব (৩৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। দরবেশকে গুলির পর লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে আইনজীবী নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই আইনজীবীর অবস্থা গুরুতর।
বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার দুই দিন পর আদালতে গিয়েছিলেন দরবেশ। সেখানে তার ওপর হামলা চালান মনীষ শর্মা নামের আরেক আইনজীবী। স্থানীয় পুলিশ এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ঘটনার পর দুজনকেই স্থানীয় পুষ্পাঞ্জলি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পরপরই দরবেশের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মনীষকে।
সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের ভাষ্য, বার কাউন্সিলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় দুপুর আড়াইটার দিকে দরবেশকে তিনটি গুলি করেন মনীষ। পুলিশ হত্যার কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনার জেরে রাজ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আইনজীবী সংগঠনগুলো আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ দাঁড়িয়ে দরবেশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন মনীষ। পরে তিনি গুলিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
রাজ্যের ইটাহ এলাকার বাসিন্দা দরবেশ গত সোমবার উত্তর প্রদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম নারী সভাপতি হয়ে ইতিহাস গড়েন। পুলিশের ভাষ্য, রাজ্যের মুজাফফরনগরে কর্মরত দরবেশের পুলিশ কর্মকর্তা এক আত্মীয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের বার কাউন্সিল হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। তারা নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ন্যূনতম ৫০ লাখ রুপি দেওয়ার দাবি করেছে। একই সঙ্গে বার কাউন্সিল সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আইনজীবী নিহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের অনেক রাজনীতিক। তাদের কয়েকজন যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেছেন। রাজ্যের এক সময়ের শাসক দল সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এ ঘটনার জন্য রাজ্যের ‘অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আইনের রক্ষাকারীরাও রাজ্যে নিরাপদ নয়। অখিলেশের জোটসঙ্গী বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান ও আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী হিন্দিতে এক টুইটে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। টুইটে তিনি লেখেন, উত্তর প্রদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সভাপতিকে হত্যার ঘটনা দুঃখজনক ও ব্যাপক নিন্দনীয়। এ ঘটনার পাশাপাশি শামলিতে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হেনস্তার ঘটনা প্রমাণ করে সাধারণ নির্বাচনের পর বিজেপি সরকারের অধীনে উত্তর প্রদেশে নৈরাজ্য ও জংলি শাসন বেড়েছে।
