প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিজিএমইএ

আরও ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় পোশাক খাতে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ১০:৪৯ পিএম

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে আরও ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আরও ২ শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। কারণ পোশাক খাত টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে ছোট কারখানাগুলো। এজন্য প্রণোদনা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

গতকাল রবিবার প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ। এতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এই দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহ-সভাপতি এস.এম. মান্নান (কচি), সহ-সভাপতি (অর্থ) এম. এ  রহিম (ফিরোজ) ও  সহ-সভাপতি মো. মশিউল আজম (সজল)।

রুবানা হক বলেন, ‘দেশের মোট রপ্তানিতে ৮৩ শতাংশ অবদান তৈরি পোশাক খাতের। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েক কোটি মানুষ। প্রস্তাবিত বাজেটের আগে  দাবি ছিল ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনার। এতে টাকার পরিমাণ দাঁড়াত ১৮ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু দেওয়া হয়েছে এক শতাংশ হারে। এটি যথেষ্ট নয়। এজন্য চূড়ান্ত বাজেটে ৩ শতাংশ হারে বরাদ্দ দাবি করছি।

মুদ্রা বিনিময় হারকে প্রণোদনা বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব ছিল ডলারপ্রতি ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদান। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। অথচ মোট রপ্তানি আয়ে ডলারপ্রতি ১ টাকা অবমূল্যায়ন হলেও পোশাক খাতে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পায়, সে হিসেবে ১ শতাংশ প্রণোদনা কম। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ কারণে পণ্য বহুমুখীকরণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া এ খাতে প্রযুক্তির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। টেকনোলজি না থাকার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে ওঠা যাচ্ছে না।

রুবানা আরও বলেন, বিশে^র সবচেয়ে বেশি কমপ্লায়েন্স কারখানা এখন বাংলাদেশে। কিন্তু বায়ারদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এটা এখন সাংঘাতিক চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রতি মাসে কিছু কিছু করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।   

রুবানা হক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাব্লিশড। আর সাহায্য দরকার নেই, তা ঠিক নয়। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে হলেও বেতন দিয়েছে।’

পোশাক খাত বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ বেশি থাকলেও বছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। নানারকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিত। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কৃষকের সঙ্গে মালিকের তুলনা করা চলে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গেলে মনে হয় আমাদের পোশাক খাত শিশু। আসলেই আমরা দুর্বল শিশুর অবস্থানে চলে এসেছি।’

প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতে ভ্যাট অব্যাহতির বিষয়টিকে স্বাগত জানায় বিজিএমইএ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত