পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর জেরে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিক নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের মতো কেন্দ্রটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৮ প্লাটুন, এক হাজারের বেশি পুলিশ ও বিপুলসংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে সংঘর্ষ ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাফিজকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
অন্যদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তার নেতৃত্বে পুলিশের তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের প্রথম দিনে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান মাহফুজুর রহমান।
এদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকজন শ্রমিক মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতে বাঙালি শ্রমিকদের অর্ধেকেরই বেশি দেয়াল টপকে ব্যারাক থেকে পালিয়ে বাইরে চলে গেছেন। বাঙালি শ্রমিকদের খাবার ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক অভুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার লাশ গুম করার গুজবের জেরে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিক নিহত হন। একই ঘটনায় পাঁচ চীনা শ্রমিকসহ আহত হন আরও সাত শ্রমিক। ওই ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কমিটি গঠন করা হয়।
