শিক্ষার্থীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই বোনের গায়ে আগুন

আপডেট : ২২ জুন ২০১৯, ০২:১৭ এএম

নরসিংদীতে শিক্ষার্থী ফুলন রানী বর্মণকে (২২) গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে রাজু সূত্রধর নামে একজন ফুলনের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর বিচারিক হাকিম শারমিন আক্তার পিংকীর

 আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তিনি জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ফুলনের গায়ে আগুন দেয় ফুফাত ভাই ভবতোষ। অভিযুক্ত ভবতোষকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, গত ১৩ জুন রাতে ফুলন বর্মণ দোকান থেকে কেক কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই দুর্বৃত্ত তার হাত-মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তার বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ পরদিন সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর এসআই আব্দুল গাফফারের নেতৃত্বে অভিযানে নামে ডিবি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে চারজনকে আটক করা হয়। কিন্তু তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজু সূত্রধরকে শহরের শিক্ষাচত্বর এলাকা থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাজু ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যে ফুলনের ফুফাত ভাই ভবতোষ এবং আনন্দ নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘ভবতোষের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু সূত্রধর ও আনন্দ বর্মণ। ফুলনের পিতার সঙ্গে প্রতিবেশী সুখ লাল ও হিরা লালের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে ঘটনার দুদিন আগে ১১ জুন ভবতোষ ও তার মামির (ফুলনের মা) সঙ্গে ঝগড়া হয় সুখ লালের। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে ফুলনের মা জমি বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কথা বলেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ভবতোষ।’

ঘটনার দিন ভবতোষ তার বন্ধু রাজু ও আনন্দকে নিয়ে বীরপুর রেললাইনে বসে ফুলনের গায়ে আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন জানিয়ে জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘সে অনুযায়ী মামাত বোন ফুলন কেক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার মাথায় ও শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় ভবতোষ। আগুন দেওয়ার পর ভবতোষ ও আনন্দ একসঙ্গে আর রাজু আলাদাভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত