প্রসূতির অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ০১:৪৮ এএম

সন্তান জন্মদানের জন্য প্রসূতির অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন) বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। আজ বুধবার কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এর ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারী। আবেদনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)

 

 সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করে এ বিষয়ে তাদের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক নারীর প্রসবকালীন সময়ে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করে, সেসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। 

রিটকারী আইনজীবী জানান, যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং প্রসূতি নারী কিভাবে সন্তান জন্ম দেবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তার সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে পরামর্শক নিয়োগ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলের আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।

রিটকারী সাইয়্যেদুল হক সুমন জানান, গত ২১ জুন বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত দুই বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের হার ৫১ শতাংশ বেড়েছে। এতে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচারে সন্তান জন্মদানে নানা ঝুঁকিও রয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের এই প্রতিবেদনে প্রসবকালীন অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ওপর নজরদারি করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রিট আবেদনে, সে বিষয়েও হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে দেশে শিশু জন্মদানের ক্ষেত্রে ৮ লাখ ৬০ হাজার অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার হয়েছে। এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য বছরে ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরছ হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ বিশে^র অনেক দেশে সিজারিয়ান বেড়েছে। তবে ওই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের তফাৎ হলো সিজারিয়ানের ফলে যে হারে মাতৃমৃত্যু কমা উচিত বাংলাদেশে তা হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত