টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়াও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করতে সুশীল সমাজকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে একটি মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে কেমন গণতান্ত্রিক চর্চা প্রয়োজন?’ শীর্ষক সংলাপে একাধিক বক্তা এমন অভিমত দেন।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. রিন হলেনস্টাইন। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইস লেখক ও সাংবাদিক পিটার নিগলি। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. রওনক জাহান, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘আমরা শুধু আয়বৈষম্য, সম্পদের বৈষম্য নিয়ে কথা বলি। কিন্তু গণতন্ত্র চর্চায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আলোচনা করি না। সুশীল সমাজকে এ ক্ষেত্রে শুধু পরামর্শ দিলেই হবে না, কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চায় অনেক ভালো করছে। এরপরও আরও ভালো করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানসম্পন্ন প্রবৃদ্ধি হতে হবে।
মেনন বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা হয় না। আমাদের দেশ আমলা ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি চান না স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। এ জন্য সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে চাপ তৈরি করতে হবে।’
অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, ‘জাতীয় সংসদে এক দলের বা এক ব্যক্তি খুব বেশি ক্ষমতাবান হলে সে ক্ষেত্রে সংসদকে আমরা শক্তিশালী বলতে পারি না। আমরা দেখতে পাই, বাজেট নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয় না। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা ছাড়া কোনো প্রকার কর আরোপ করা যায় না। আমাদের দেশে জাতীয় সংসদে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোর তেমন ভূমিকা নেই।’
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. রিন হলেনস্টাইন বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র চর্চায় অনেক এগিয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসডিজির মূল বিষয় হলো কাউকে পেছনে ফেলে নয়। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ক্ষমতায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ হয়তো এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের ১৬টিই অর্জন করতে পারবে। কিন্তু আমি মনে করি, একটি অভীষ্ট অর্জন করতে পারবে না, সেটি হলো অভীষ্ট ১৬ : শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান।’
সংলাপের মুক্ত আলোচনা পর্যায়ে অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী জনগণই ক্ষমতার উৎস। গণতন্ত্রের সুফল পেতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।’
