ফল পরিবর্তনের নামে সক্রিয় প্রতারক চক্র

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ০২:০১ এএম

আগামী ২০, ২১ অথবা ২২ জুলাই উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগমুহূর্তে ফল পরিবর্তনের নামে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফল খারাপ করার আশঙ্কায় থাকা শিক্ষার্থীদের ফল ভালো করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে

 নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ বলছেন, এভাবে ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এদের থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভুয়া ফেইসবুক আইডি খুলে ফল পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে বিভিন্ন চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি ফেইসবুকের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যে বিষয়ে ফল খারাপ হয়েছে সে বিষয়ের ফল পরিবর্তন করে দেওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫, এমনকি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ারও গ্যারান্টি দেয় তারা। প্রতি বিষয়ে ফল পরিবর্তনের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। এরপর চুক্তি চূড়ান্ত হলে কৌশলে কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডের ফটোকপি নেয় চক্রটি। এরপর ফল পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে এলে ফল পরিবর্তন হয়েছে নিশ্চিত করে ফটোশপে এডিট করা ভুয়া নম্বরপত্র ধরিয়ে দেয় শিক্ষার্থীর হাতে। এরপর বাকি টাকা তুলে নিয়ে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে দেয় চক্রটি। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী কাক্সিক্ষত ফল পায়নি। চক্রটি যে নম্বরপত্র সরবরাহ করেছিল তা সম্পূর্ণ ভুয়া।

গত এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তনের জন্য রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের এক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এমনই এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছিল। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ওই অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চাকে অনেক কষ্টে রেসিডেন্সিয়ালে ভর্তি করিয়েছিলাম। এসএসসি পরীক্ষার সময় আমার বাচ্চা খুব অসুস্থ ছিল তাই পরীক্ষা ভালো হয়নি। ফল ভালো হবে না এটা নিশ্চিত ছিলাম দেখেই একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি যাতে ফল ভালো হয়। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ প্রতারক চক্র। আমার ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাকে ফেইসবুকে খুঁজে পেয়েছিলাম, পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে তার হাতে অ্যাডমিট কার্ড ও প্রথমে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। পরে আরও ১০ হাজার দিই। কিন্তু বুঝতে পারি এটা সম্পূর্ণ প্রতারক।’

এরকম কয়েকটি অভিযোগের পর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এদিকে ফেইসবুকে এমন কয়েকশ আইডি পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতই তাদের আটক করা সম্ভব হবে।

এসব প্রতারক চক্র থেকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। ফল বদলে দেওয়ার প্রলোভন সম্পূর্ণ প্রতারণা। এভাবে ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগই নেই। আমরা এ বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে আহ্বান করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত