টুর্নামেন্টের ‘সেরা লড়াই’ আজ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৯, ০৩:৩১ এএম

আসরের দুই ফেভারিট, দুই ‘বিগ টিম’ মুখোমুখি আজ। ভারত ও ইংল্যান্ডের মধেই চ্যাম্পিয়ন আসবেÑ এমনটা ধারণা ছিল টুর্নামেন্টের আগে। বিশ্বকাপ মাঝপথ পেরোনোর পর ওই আলোচনায় পরিবর্তন এসেছে। ভারতের কাছে মাঠে ও মাঠের বাইরের লড়াইয়ে পিছিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। তবুও এই ম্যাচের গুরুত্ব বিশেষ। ভারত ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করার জন্য তৈরি। ওদিকে স্বাগতিকরা ভারতকে আসরের প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে স্পটলাইট আবারও নিজেদের দিকে ফেরাতে চান। সব মিলিয়ে উপভোগ্য এক লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি রেখেই মাঠে নামছে দুই প্রতিপক্ষ।

ইংল্যান্ডের জন্য দলটির বর্তমান অবস্থান খুবই হতাশার। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল তারা। বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন ছিল দলটিকে ঘিরে। অথচ টুর্নামেন্টের মাঝপথেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় স্বাগতিকরা। রাউন্ড রবিন পর্বে আর দুটি ম্যাচ বাকি ইংল্যান্ডের। ৭ ম্যাচে ৪ জয় ও ৩ হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ অবস্থানে স্বাগতিকরা। ওদিকে ৬ ম্যাচে ৫টি জয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচ থাকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুইয়ে ভারত। সেমিফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছে বিরাট কোহলির দল। এই ম্যাচে জিতে বাকি পা টাও রাখতে চায় তারা। ইংল্যান্ডকে হারালে অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে নাম লেখাবে ভারত। আর বিপরীত কিছু হলে সেমির পথে এগিয়ে আসবে চাপে থাকা ইংল্যান্ড।

দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে ইংলিশরা। ৯৯ ম্যাচে ৪১টি জিতেছে ইংল্যান্ড আর ভারত ৫৩ ম্যাচে। টাই হয়েছে দুই ম্যাচ ও পরিত্যক্ত তিনটি। দু’দলের শততম ম্যাচে কার ভাগ্যে জয় আছে তা আজই জানা যাবে। ওয়ানডে লড়াইয়ে ইংল্যান্ড পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে দুই দলের জয়-পরাজয় সমান। ২০১১ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে টাই হয়েছিল দু’দলের লড়াই। এছাড়া বাকি ছয় ম্যাচে সমান তিনটি করে জয় ভারত ও ইংল্যান্ডের। আজ অষ্টম ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দুই প্রতিপক্ষের।

টুর্নামেন্টের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইটা এজবাস্টনে। দুই পক্ষেই ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগ যথেষ্ট গোছানো। বড় স্কোরের জন্য মুখিয়ে থাকবে আগে ব্যাট করা দল। তবে হতাশার বিষয়, তা নাও হতে পারে। কারণ বার্মিংহামের ভেন্যু এজবাস্টনে এই আসরে হওয়া দুটি ম্যাচে তিনশো ছাড়ানো স্কোরও আসেনি। দলীয় সংগ্রহ আড়াইশোর নিচেই হয়েছে ম্যাচ। প্রথম ম্যাচটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে ২৪১ রান তোলে। জবাবে ২৪৫ করে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। আর দ্বিতীয় ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে তুলেছিল ২৩৭ রান। লক্ষ্য তাড়া করে পাকিস্তান ২৪১ রান তুলে জিতে নেয়। এর মানে, এজবাস্টনে বোলাররা ছড়ি ঘোরান সেটা ভাবা ভুল। দুই ম্যাচের কোনোটিতেই অলআউট হয়নি কোনো দল। এমনকি ৬ উইকেটের বেশিও পড়েনি। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খবর, পরে ব্যাট করা দলই জিতেছে দুই ম্যাচে।

ইংল্যান্ডের জন্য স্বস্তির খবর জেসন রয়ের ফেরা। ইনজুরিতে পড়ার আগে পর্যন্ত খেলা তিন ইনিংসে ১৫৩ রানের বিশাল সেঞ্চুরি ও একটি হাফসেঞ্চুরি আছে রয়ের। জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে পুরনো ওপেনিং জুটি ফিরে আসায় নির্ভার হবে ইংল্যান্ড। পরের দিকে জো রুট, ওয়েন মরগান, বেন স্টোকস ও জস বাটলাররা ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে আরও একবার নিজেদের সেরাটা নিয়ে আসবেন। তবে শক্তিশালী এ ব্যাটিং লাইনকে চ্যালেঞ্জ উপহার দেবে ভারতীয় বোলিং। মোহাম্মদ শামি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন যেন। হ্যাটট্রিকসহ দুই ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। এই পেসারকে সামলে জাসপ্রিত বুমরাহ, যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদ্বীপ যাদবদের চ্যালেঞ্জও সামলাতে হবে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের।

এদিকে ভারতের ব্যাটিং লাইন শুরুর সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। শুরুতে দুটি ম্যাচে তিনশো ছাড়ানো স্কোর করা কোহলিরা গত দুই ম্যাচে আড়াইশোর কোটাতেই আটকে ছিল। বিশেষ করে ওপেনার শিখর ধাওয়ান ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ার পর ব্যাটিং ছন্দ কেটে গেছে কোহলিদের। ওপেনাররা খুব একটা ভালো করতে না পারায় চাপ পড়ছে মিডলঅর্ডারে। সেই ধাক্কা সামলাতে আজ অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে রিশভ পান্তকে খেলানো হতে পারে। ব্যর্থ বিজয় শঙ্করকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে হয়তো। গত তিন ম্যাচে বোলিং সাফল্যে জয়ের মুখ দেখেছে ভারত। ইংল্যান্ডের সঙ্গেও বোলাররা ভরসা হবেন না ব্যাটসম্যানরা আবার জ্বলে উঠবেন সেটাই দেখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত