কেন দেশ ছাড়তে চায় মরক্কোর অর্ধেক মানুষ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম

মরক্কোতে থাকতে চাইছে না দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ। তারা অন্য দেশে পাড়ি জমাতে চায় অথবা অবিলম্বে মরক্কোয় একটা রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়।

বিবিসির এক জরিপে এমনটা জানিয়েছেন মরক্কোর নাগরিকেরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির আরবি বিভাগের চালানোর জরিপটিতে দেখা গেছে, মরক্কোর প্রায় অর্ধেক লোক দেশ ছাড়ার কথা ভাবছে।

সম্প্রতি সুদান এবং আলজেরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে মরক্কোর নাগরিকেরাও নির্বাচন এবং একনায়কতন্ত্র, বাক স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট।

জরিপে মরক্কোর উত্তরদাতাদের অর্ধেকই বলেছেন, তারা অবিলম্বে রাজনৈতিক পরিবর্তন চান।

দেশটির ৪৫ শতাংশ মানুষের বয়সই ২৪ এর নিচে।  তার মধ্যে অনুর্ধ-৩০ বছরের নিচে প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশই দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চান।

ষাট বছরের বেশি বয়স্কদের অর্ধেকই সরকারের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তবে ১৮-২৯ বছর বয়স্কদের মধ্যে এ হার মাত্র ১৮ শতাংশ।

২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ বেশ কিছু সংস্কার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

নতুন সংবিধান হয়, পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানো হয়, তবে বাদশাহের ব্যাপক কর্তৃত্ব এখনো বহাল আছে। অনেক সংস্কারই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও বিরোধীদলীয় কর্মী আবদেললতিফ ফাদুয়াশ।

তিনি বলেন, “আলজেরিয়া, সুদান, বা তার আগে সিরিয়া-মিশর-লিবিয়া-তিউনিসিয়ায় যা ঘটেছে তা যে কোনো সময় মরক্কোতে ঘটতে পারে।”

আরেকজন সাংবাদিক আবদেররহিম স্মুগেনি বলেন, “লোকে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ, কারণ তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে শুধু কর বাড়াচ্ছে। কিন্তু মরক্কোর বাদশাকে লোকে দেখে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। সুদান বা আলজেরিয়ার সাথে এটা একটা বড় পার্থক্য, কারণ ওই দেশগুলো মরক্কোর মতো রাজতন্ত্র নয়।”

তবে অনেকের মতে, এ রাজতন্ত্র এখন নাও ঠিকতে পারে। আলজেরিয়া-সুদানের মতো মরক্কোতেও গণ-অসন্তোষের চিত্র দেখতে পাচ্ছেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত