চট্টগ্রামে রাস্তায় ফেলে যুবলীগ কর্মীকে বেধড়ক পিটুনি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ০৪:০০ এএম

নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনি এলাকায় এক যুবলীগ কর্মীকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মারধরের শিকার মো. মহসিন (২৬) উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার মোর্শেদ কচির অনুসারী বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। গত রবিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে ওই যুবককে বেধড়ক মারধরের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে। আহত মহসিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ২৪ জুন বরগুনায় স্ত্রীর সামনে শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারা দেশে আলোচিত হয়।

চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুবককে মারধরের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো মো. মাসুদ (১৮), মো. মিরাজ (১৭), মো. সাজু (২৪), মো. বেলাল (২০) ও মো. তারেক (১৮)। এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। ওসি আরও জানান, হামলায় আহত মহসিন এক মাস আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত ২৫ জুন মুক্তি পায়। বাসার কাছেই সে হামলার শিকার হয়।

মারধরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে থাকা মহসিনকে মারধর শুরু করে ১২ থেকে ১৫ জন যুবক। মহসিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারপাশ থেকে ঘিরে রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে তারা। পরে অচেতন অবস্থায় মহসিনকে ফেলে রেখে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারধরের সময় জুয়েল নামে এক যুবক মহসিনের পা ধরে রাখে। জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জসিম উদ্দিন। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে তুহিন, রাব্বী, পারভেজ, ফারহান ও খোকন নামে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার কথা জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা বলেছে, মহসিন এলাকায় নিজেকে যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তার বিরুদ্ধে মারামারি-হামলার একাধিক অভিযোগ আছে। এদিকে নগরীর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কচির অনুসারীদের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগদলীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীমের অনুসারীরা এই হামলা করেছে। এই দুটি গ্রুপের মধ্যে ২৯ জুন রাত থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেই থেকে গত রবিবার পর্যন্ত তিন দফা হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত