লিবিয়ায় অভিবাসী কেন্দ্রে বিমান হামলায় নিহত ৪০

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৪২ এএম

লিবিয়ায় একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। গতকাল বুধবার ভোররাতে রাজধানী ত্রিপোলির তাজৌরা এলাকায় চালানো এ হামলায় আরও ৮০ জন আহত হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলায় নিহতদের অধিকাংশ আফ্রিকান অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়ার জরুরি বিভাগগুলোর মুখপাত্র ওসামা আলি জানিয়েছেন, অভিবাসী আটক কেন্দ্রটিতে ১২০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। নিহতের এ সংখ্যা প্রাথমিকভাবে গণনা করা এবং এটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ হামলার জন্য সাবেক জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে (এলএনএ) দায়ী করেছে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার (জিএনএ)। তাজৌরা এলাকায় জিএনএ’র অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে এলএনএ’র লড়াই চলছে।

জিএনএ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘ব্যাপক বিমান হামলা’ চালানো হবে বলে এলএনএ গত সোমবার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এলএনএ’র এক মুখপাত্র অভিবাসী কেন্দ্রে তাদের হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।

২০১১ সালে দেশটির সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে হত্যার পর থেকে লিবিয়ায় সহিংসতা বিরাজ করছে এবং দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও বাহিনীগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে যাওয়ার প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। এখানে হাজার হাজার ইউরোপে গমনপ্রত্যাশীকে আটক করে এ ধরনের অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে।

লিবিয়ায় হামলায় নিহতের বেশিরভাগই আফ্রিকার নাগরিক বলে জানিয়েছেন লিবিয়ায় বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এস কে সিকান্দার আলী। তিনি বলেন, এ হামলায় হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ত্রিপোলিতে যে জায়গায় হামলা হয়েছে, সেটা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। দূতাবাস থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরে। সেখানে পৌঁছানো একটু কঠিন। দূতাবাসের একটি টিম রওনা হয়েছে। তারা এখনো রিপোর্ট দেয়নি। রিপোর্ট এলে আমরা জানতে পারব।

লিবিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর পর্যালোচনা করে এখন পর্যন্ত ৮০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস কে সিকান্দার আলী। তিনি বলেন, এর মধ্যে ৪৫ জন ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। আইওএমএ’র সহায়তায় তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ রাতে ৩৫ জনের দেশে ফেরার কথা আছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ ডিটেনশন সেন্টারে ছিলেন কি না তা আমাদের জানা নেই।

উল্লেখ্য, লিবিয়ায় অভিবাসীদের একটি বন্দিশিবিরে গত মঙ্গলবার রাতে বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলায় হতাহতদের বেশিরভাগই আফ্রিকান অভিবাসী বলে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত