বিবিসিকে তথ্যমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০২:২২ এএম

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। লন্ডনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য সফরে রয়েছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।’

এ সময় রিপোর্টার্স উইথ আউট বর্ডারস-এর ২০১৯-এর প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই যে ইনডেক্সগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো কোন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে করা হয় আমি তা জানি না। বাংলাদেশের পুরো গণমাধ্যম বর্তমানে যে স্বাধীনতা ভোগ করে, ইউকে-তেও অত স্বাধীনতা সবক্ষেত্রে সব সময় ভোগ করে না।’

উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ভুল, অসত্য কিংবা ফেব্রিকেটেড সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনো পত্রিকা বন্ধ হয় না। ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য এখানে জরিমানা গুনতে হয় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে। যেটা বাংলাদেশে করা হয় না।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে হুমকি থাকার কারণে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সেলফ সেন্সরের মুখে পড়েন কি নাÑ বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি দু-একজন হয়তো বলতে পারে। তবে তারা সেটা বহুদিন ধরে বলে আসছে। সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করে। ইউকেতে আইনের প্রয়োগ আছে। আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগগুলো ঠিক সেভাবে হয় না।’

‘এছাড়া আমাদের দেশে গণতন্ত্রের চর্চাটাই সবসময় নিরবচ্ছিনভাবে হয়নি। এদেশে গণতন্ত্রের চর্চাটাই হচ্ছে কয়েকশ বছর ধরে। এখানে স্বাধীনতা যেমনি আছে, তেমনি আইনেরও প্রয়োগ আছে।’

গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় সমাজের রাজনীতিতে জবাবদিহি কমে যাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ কীÑ বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যম কিছু বণিক-গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে। ফলে তারা চাইলেও সেই বণিক গোষ্ঠীর সমালোচনা করতে পারে না অনেক ক্ষেত্রে। সেই বণিক গোষ্ঠী অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। কিন্তু এটার স্বাধীনতা রক্ষায় যারা এর পেছনে অর্থলগ্নি করেছে, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে কীভাবে কাজ করা যায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত