তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে চায় চট্টগ্রাম বিএনপি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০২:১৩ এএম

প্রতিপক্ষের রক্তচক্ষু, জেল, মামলা আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। জোরালো সাংগঠনিক কোনো কর্মসূচিও নেই দীর্ঘদিন। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বহুধাবিভক্ত বিভিন্ন জেলা-উপজেলা কমিটির নেতারা। এতে অনেকটা হতাশা বিরাজ করছে দলের তৃণমূল পর্যায়ে। এমন প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের মনোবল ফেরাতে আগামী ২০ জুলাই চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

দলীয় নেতারা জানান, গত ২৯ জুন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আগামী ২০ জুলাই চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন স্থানীয় নেতারা। এ সমাবেশে বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে তূণমূলের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙা করতে চান তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে বিএনপি। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক         আবুল হাশেম বক্কর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২০ জুলাই বেলা ৩টায় নগরীর লালদীঘি মাঠসংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর অথবা কাজীর দেউড়ি চত্বরে মহাসমাবেশ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার, অবৈধ সংসদ বাতিল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিও থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আমরা এটাকে বড় ধরনের সমাবেশে রূপ দিতে চাই। এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রীয় মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত থাকবেন। আশা করছি, এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের একটা দিকনির্দেশনাও পাবেন।’

বিএনপি নেতারা জানান, চট্টগ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় এখনো কারাগারে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। এলাকায় থাকা কর্মী-সমর্থকরাও অনেকটা নিষ্ক্রিয়। কেউ কেউ সক্রিয় হতে চাইলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দাপটে কোথাও দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নেমে এসেছে এক ধরনের হতাশা, যার বহির্প্রকাশ ঘটেছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রামের সব কটি আসনে প্রার্থী দিলেও নগরীর বাইরে দুই-একটি আসন ছাড়া অধিকাংশ এলাকাতেই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন বেশিরভাগ নেতাকর্মী। যারা প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তাদের বেশিরভাগই মামলার আসামি হয়েছেন। নির্বাচনের পর কোনো কার্যকর সাংগঠনিক কর্মসূচি না থাকা ও পরে উপজেলা নির্বাচন বর্জন করায় তৃণমূলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লালদীঘি মাঠেই এ মহাসমাবেশ করার চিন্তা ছিল। কিন্তু কৃষিমেলার কারণে ৩০ জুলাই পর্যন্ত লালদীঘি মাঠ খালি না থাকায় জেলা পরিষদ চত্বর কিংবা কাজীর দেউড়ি চত্বরে মহাসমাবেশের আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।’ সমাবেশে জনসমাগম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা থেকেই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সমাবেশে উপস্থিত হবেন। হামলা, মামলা, নির্যাতন, জেল-জুলুমের শিকার আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছেন। আমি এবং সাধারণ সম্পাদক দুজনেই দীর্ঘদিন জেলে ছিলাম। কিন্তু এত কিছুর পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা এখনো দলের সঙ্গেই আছেন, দলের ডাকে যেকোনো মুহূর্তে তারা সাড়া দেবেনÑ এটাই বাস্তবতা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত