ব্যবসা সহজে করতে বাণিজ্যিক সালিশি, চুক্তি এবং বাণিজ্যিক আইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ মনোনিবেশ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বাংলাদেশে ব্যবসা আরও সহজতর উন্নতির জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা অবিলম্বে চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ‘কমার্শিয়াল লিগ্যাল প্রাকটিস অ্যান্ড রিসেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল অংশ বাণিজ্য। কিছু কিছু বিশেষ কারণে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক লেনদেন উৎসাহ যোগাতে পারছে না। আইনজীবী এবং বিচারকদের দেশের বাণিজ্যিক আইন ও সর্বশেষ উন্নয়নের সঙ্গে ভালো পরিচিত হওয়া উচিত।’ পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করার সহজতর উন্নতির জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা অবিলম্বে চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বাণিজ্যিক আইন প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা বা সালিশির মাধ্যমে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা বাংলাদেশে অস্বীকার করা হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বিরোধের দৃঢ়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনের সুযোগ ও গুরুত্বকে এখন বিস্মৃত করেছে। বিশ্বের কোনো অঞ্চলকে শিল্প বা কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বাণিজ্যিক সালিশি প্রভাবের এলাকা থেকে আজ বাদ দেওয়া হয় না।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাণিজ্যিক বিরোধগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলোর বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরে সালিশি বিষয়ে আইনের আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করার জন্য সর্বদা চাহিদা ছিল। বাংলাদেশ পুরনো সালিশি আইন, ১৯৪০ বাতিল করে নতুন সালিশি আইন প্রণয়ন করে। বাণিজ্যিক সালিশি, চুক্তি এবং চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে বাংলাদেশে ব্যবসা সহজে এবং বাণিজ্যিক আইন ইত্যাদি চ্যালেঞ্জগুলোতে মনোনিবেশ করা হবে।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আপিল বিভাগের জেষ্ঠ বিচারপতি ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। এসময় আরও বক্তব্য দেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ’র আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ মুখার্জী।
