কাদেরের বিচারে গণআদালত করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০২:২৬ এএম

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে ‘বেইমানি’ করার অভিযোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন চত্বরে গণআদালত স্থাপন করে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিচার করবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে

এক মানববন্ধনে মঞ্চের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে ওবায়দুল কাদেরকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘গত ৩০ জুন ওবায়দুল কাদের ধানমণ্ডি ৩/এ-তে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেনÑ যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত পরিবারের সন্তানরাও আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারবে, আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভূমিকা প্রাধান্য পাবে, কোন পরিবারের সন্তান সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়Ñ হউক সে জামায়াত কিংবা যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান।’ একই দিন সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি ও যুদ্ধাপরাধী পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না।’

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় গতকাল শনিবা শাহবাগে পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি। সেখানে গণআদালত করে কাদেরের বিচারসহ সাতটি ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির ঘোষণা দেন মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন।

মঞ্চের কর্মসূচিগুলো হলো ৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১০-১২ জুলাই আওয়ামী লীগকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা’ ও ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগের দাবিতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি পর্যন্ত পদযাত্রা, ২০ জুলাই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন হয়ে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় পর্যন্ত পদযাত্রা, ১৫ আগস্ট সারা দেশের ইউনিয়ন-থানা-জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিএনপি-জামায়াত ও মৌলবাদীদের তালিকা প্রকাশ, ৮ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত স্থাপন করে ওবায়দুল কাদেরের বিচার, ৩০ সেপ্টেম্বর সারা দেশে জেলা-উপজেলাওয়ারী রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ এবং ২০২০ সালের ৩০ জুন রাজাকারদের বংশধরদের তালিকা প্রকাশ।

মানববন্ধনে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত